কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে চলমান এসএসসি পরীক্ষার একটি কেন্দ্রে চলছে নকল সরবরাহ। সোমবার চৌমুহনী বাজার মুজিবুল হক উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে গণিত পরীক্ষা চলাকালীন কয়েকজন কিশোরকে পরীক্ষার্থীদের দেয়াল টপকে নকল সরবরাহ করতে দেখা গেছে। সাংবাদিকদের গোপন ক্যামেরায় বিষয়টি ধরা পড়লেও অস্বীকার করছেন কেন্দ্র সচিব মামুন হোসেন। ওই কেন্দ্রে নালঘর উচ্চবিদ্যালয়, চৌমুহনী বাজার মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়, ভাটরা কালজয়ী বিদ্যানিকেতন ও বগৈড় উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০৬ জন ছাত্রছাত্রী পরীক্ষা দিচ্ছে।
১০ এপ্রিল সারা দেশে এসএসসি, দাখিল ও কারিগরি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষার প্রথম দিন থেকে চৌদ্দগ্রাম চৌমুহনী মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে নকল সরবরাহ করে কয়েকজন কিশোর। তবে অন্যান্য কেন্দ্রে সন্তোষজনক পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পরীক্ষার দ্বিতীয় দিন চৌমুহনী মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে দেয়াল টপকে নকল সরবরাহ করেছে সন্দেহে দুই কিশোরকে ‘সামান্য’ শাস্তিও দেয়া হয়।
সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় কেন্দ্র এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চৌমুহনী বাজারের রাইট টেলিকম অ্যান্ড ফটোকপি দোকানে কয়েকজন কিশোর ফটোকপি করছে। এর মধ্যে এক কিশোরের দেয়াল টপকে কেন্দ্র থেকে বের হওয়ার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। সাড়ে ১১টায় হল থেকে একজন পুলিশ বের হয়ে রাস্তায় আসেন। তখন দুই কিশোরকে বলতে শোনা যায়, দ্রুত কম্পিউটার দোকানে ফোন করো, না হয় পুলিশ গিয়ে জরিমানা করবে।
অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, গত ১৭ বছর পরীক্ষার যে হাল ছিল, এখনো শর্ষের ভেতরে ভূত রয়েছে। শিক্ষকরা এমসিকিউর অধিকাংশই বলে দেয়। কিশোররা দেয়াল টপকে নকল সরবরাহ করছে।
কেন্দ্র সচিব মামুন হোসেন বলেন, ‘দেয়াল টপকে কিশোরের পার হওয়ার স্থিরচিত্র দেখেছি। কেন্দ্রের পশ্চিম পাশে পুকুর। দেয়াল টপকে নকল দেয়ার বিষয়টি সত্য নয়’।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার একেএম মীর হোসেন বলেন, চৌমুহনী বাজার মুজিবুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে অনিয়মের কিছু অভিযোগ পেয়েছি। মাত্র তিনটি পরীক্ষা শেষ হয়েছে। আগামীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামাল হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর কেন্দ্রে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠানো হয়েছে। দেয়াল টপকে যে জায়গা দিয়ে নকল সরবরাহের কথা বলা হচ্ছে, সেখান দিয়ে নকল পাঠানো সম্ভব না’।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

