চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অসদাচরণ, হুমকি-ধমকি, মারধর ও লাঞ্ছিত করার ঘটনার প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সভা-সমাবেশের সংবাদ বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন সাংবাদিকরা।
বুধবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত জরুরি প্রতিবাদ সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামালের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সাংবাদিকরা সর্বসম্মতিক্রমে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের সংবাদ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন।
সভায় সাংবাদিকদের বক্তব্য শেষে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা কামাল বলেন, সাংবাদিকদের ওপর অব্যাহত হামলা, মারধর, লাঞ্ছনা ও হুমকি-ধমকির প্রতিবাদে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব ধরনের সভা-সমাবেশের সংবাদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার থেকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে।
সভায় জানানো হয়, কয়েক দিন আগে দৈনিক ইত্তেফাকের ফরিদগঞ্জ সংবাদদাতা মহিউদ্দিনকে ফরিদগঞ্জ বাজারে সকালে প্রকাশ্যে মারধর ও লাঞ্ছিত করা হয়। ওই ঘটনার পর জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। খবর পেয়ে সাবেক সংসদ সদস্য লায়ন হারুনুর রশিদ সরাসরি সভায় উপস্থিত হন। তাঁর অনুরোধে সমঝোতার প্রস্তাব মেনে নেওয়া হয়।
কিন্তু মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে আবারও সাংবাদিক মহিউদ্দিনকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত সাংবাদিক শিমুল হাসানকে মারতে উদ্যত হয়ে তাঁর দিকে তেড়ে আসেন কয়েকজন। পরে উপস্থিত অন্যরা শিমুল হাসানকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। এ ঘটনায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্দেশে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলে সভায় অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া সংবাদ সংগ্রহকে কেন্দ্র করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দালাল চক্রের সদস্যদের অসদাচরণ, উপজেলা পরিষদ এলাকায় টেন্ডারকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং থানা এলাকায় সাংবাদিকদের হুমকি-ধমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে ধরা হয়। সাংবাদিকদের কুপিয়ে জখম করার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়।
এদিকে ফরিদগঞ্জে বিএনপির কোনো কমিটি নেই। তবে বর্তমানে যাঁরা দলটির নেতৃত্বে রয়েছেন, তাঁদের উদ্যোগে সাংবাদিকদের প্রতি দলীয় নেতাকর্মীদের হুমকি-ধমকি বন্ধে পৃথক বা সম্মিলিতভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে উদ্ভূত পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান করা হলে প্রেসক্লাবের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ থাকবে বলে জানিয়েছেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি।
সভায় ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মামুনুর রশিদ পাঠান, নুরুন্নবী নোমান, সিনিয়র সহসভাপতি এমকে মানিক পাঠান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী, আবদুস ছোবহান লিটন, নুরুল ইসলাম ফরহাদ, বর্তমান কমিটির সহসভাপতি মো. মহিউদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন বেলাল, সহসাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন খান স্বপন, সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী মমিন, দপ্তর সম্পাদক মোশারফ হোসেন ফারুক, প্রচার ও ক্রীড়া সম্পাদক মেহেদী হাসান, প্রকাশনা ও পাঠাগার সম্পাদক আমান উল্যাহ খান ফারাবী, আইসিটি সম্পাদক ফাহাদ খান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, কার্যনির্বাহী সদস্য নারায়ণ রবিদাস, এসএম ইকবাল, শিমুল হাসান, আনিসুর রহমান সুজন, সদস্য এমরান হোসেন লিটন, জাকির হোসেন সৈকত, মাসুম আলম তালুকদার, তাপস চক্রবর্তী, মামুন হোসাইন, আবদুল কাদির, ফখরুল আলম পাঠান, কেএম নজরুল ইসলাম, শামীম হাসান, এফএ মানিক, সাখাওয়াত হোসেন মিন্টু ও জসিম উদ্দিন বক্তব্য দেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

