চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পৌরসভার ইদিলপুর গ্রামে নির্বাচনি প্রচারকালে জামায়াতে ইসলামীর মহিলা শাখার নেতাকর্মীদের হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
এ সময় নারী কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে তাদের সাংগঠনিক খাতা কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি ঘটে সোমবার ২৬ জানুয়ারি বিকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ইদিলপুর গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের মহিলা দায়িত্বশীলরা সোমবার বিকেলে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের পক্ষে প্রচার চালান। প্রচারকালে দলের এক নারী কর্মীর আমন্ত্রণে তারা জেবল হোসেনের বাড়িতে চা খেতে প্রবেশ করেন। এ সময় বিএনপি নেতা নাজমুল আলম সোহাগ ও যুবদল কর্মী আরিফ হোসেন সেখানে এসে হট্টগোল সৃষ্টি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তারা জামায়াতের ওয়ার্ড মহিলা দায়িত্বশীল মোর্শেদা বেগমকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে, এমন অভিযোগ তুলে তাদের হেনস্তা করেন।
পরবর্তীতে মহিলা জামায়াতের কর্মীরা বিষয়টি জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড নেতাদের অবহিত করলে ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন, সেক্রেটারি মো. কাইয়ুম, শিবিরের সাবেক পৌর সভাপতি আনোয়ার হোসেন সুমন ও জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাজ্জাদ হোসেন রফিকও সেখানে আসেন। প্রায় এক ঘণ্টা বাকবিতণ্ডার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিএনপি নেতাকর্মীরা স্থান ত্যাগ করে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ওয়ার্ড সভাপতি ডা. নুরুল হুদা শাহাবুদ্দীন বলেন, আমাদের মহিলা শাখার কর্মীরা নিয়মিত বিকেলে নির্বাচনি প্রচার চালান। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই টা করছে। কিন্তু বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের নারী কর্মীদের অশালীন ভাষায় হেনস্তা করেছে। আমরা এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।
অন্যদিকে, মহিলা দলের নেত্রী ও পৌর কমিশনার মাকসুদা বলেন, জামায়াতের কয়েকজন মহিলা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও বিকাশ নম্বর নিচ্ছিল। আমি এর প্রতিবাদ করেছি। তবে বিএনপির কেউ তাদের সঙ্গে অসদাচরণ করেনি। পরে উভয় পক্ষের নেতাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়ে যায়।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে আমি অবগত নই। এ বিষয়ে আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ করেনি।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, জামায়াতের কয়েকজন নারীর বিএনপির এক সমর্থকের বাড়িতে ভোট চাইতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

