ফেনীতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এক টমটমচালককে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে শহরের নাজির রোডে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. মাসুদ হাসান মাহিদ (১৯) কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জয়পুর গ্রামের মো. নয়নের ছেলে। তিনি দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে পরিবারসহ ফেনী শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন।
নিহতের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, মাসুদ তার পিতা মো. নয়নের সঙ্গে বরফকলে কাজ করতেন, পাশাপাশি টমটম চালাতেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় টমটম নিয়ে বের হলে কয়েকজন কিশোর তাকে ডেকে নিয়ে যায়। পরে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র নিয়ে মাসুদের ওপর হামলা করে। গুরুতর আহত মাসুদ ও তার সঙ্গে থাকা ইরফানকে (১৫) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মাসুদকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত ইরফানকে চিকিৎসকের পরামর্শে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহতের পিতা মো. নয়ন বলেন, “মাসুদ আমার সঙ্গে বরফকলে কাজ করত। কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকায় কাজে যায়নি। শুক্রবার টমটম নিয়ে বের হয়। পরে খবর পাই তাকে মেরে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এসে দেখি সে আর বেঁচে নেই। আমি ছেলে হত্যার বিচার চাই।”
নিহতের ছোট ভাই অভিযোগ করে বলেন, “ইয়াফি, রাহাত, শান্ত, মারুফ ও নিলয় আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে। এর আগেও তারা একবার আমার ভাইয়ের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। আমি সবাইকে চিনি। জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবি জানাই “
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুহুল মোহছেন সুজন বলেন, মাসুদকে হাসপাতালে আনার আগেই তিনি মারা যান। তার বাম কাঁধ ও বুকে ধারালো অস্ত্রের গভীর ক্ষত ছিল। আহত অপরজনের বাম কান ও মুখে গভীর ক্ষত রয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাহাত নামের এক কিশোরকে আটক করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানালেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
ফেনী মডেল থানার ওসি গাজী মুহাম্মদ ফৌজুল আজিম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। উক্ত ঘটনার তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

