চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি পরিত্যক্ত গুদামে মিলেছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ভিত্তিপ্রস্তর নামফলক। বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্লাবের নেতৃবৃন্দ প্রেস ক্লাবের নিচ তলার গুদাম থেকে ফলকটি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করে। এ ঘটনায় চট্টগ্রামের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা ঘটনাটিকে সাংবাদিক নামধারী ব্যক্তিদের অত্যন্ত লজ্জাজনক কাজ ও সর্বত্র আওয়ামী লীগের দলীয়করণের উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তারা বলছেন, বিগত ১৭ বছরে দেশের কতিপয় গণমাধ্যমকর্মীরা সাংবাদিকতাকে জলাঞ্জলি দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রতি কতটা দলদাস হয়ে পড়েন এ ঘটনা তারই প্রমাণ বহন করে।
জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব আওয়ামীকরণ শুরু হয়। তারই অংশ হিসেবে স্বৈরাচারের দোসর সাংবাদিকরা জিয়াউর রহমানের ভিত্তিপ্রস্তর উপড়ে ফেলে দেয়। তবে সেটি রয়ে যায় প্রেস ক্লাবের নিচের তলার গুদামে। ওই গুদামে পুরোনো জিনিসপত্র রাখা হতো। ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিবাদমুক্ত চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নেতৃবৃন্দ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ওই ফলকটি বহু খোঁজাখুঁজি করেও পাননি। সবশেষ বৃহস্পতিবার দুপুরে ক্লাবের উন্নয়ন কাজ করতে গিয়ে কিছু জিনিসপত্র খোঁজার প্রয়োজন হলে নিচ তলার গুদামের একটি কোণে অন্যান্য জিনিসপত্রের আড়ালে অস্তিত্ব মেলে দুর্লভ এই ফলকটির। এতে লেখা রয়েছে, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব অডিটোরিয়াম এবং ইনডোর মিনি স্টেডিয়াম, বাংলাদেশের মহামান্য প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক আজ ১১ ই ফাল্গুন, ১৩৮৪ বাংলা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হইল।
বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদসহ নেতৃবৃন্দ ফলকটি উদ্ধার করে যথাযথ সংরক্ষণ করে।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, আওয়ামী দোসররা সাংবাদিকতার নামে কি কি করছেন তা আজ আরও একবার জাতির সামনে আসল। তারা ভারতের প্রধানমন্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও সেই দেশের জাতির পিতার জন্মদিনও পালন করেছে বিগত দিনে। তারা কতটা দলকানা, দলান্ধ ছিল যে তারা বাংলাদেশের একজন সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ফলকটি ফেলে দেয়। এর মাধ্যমে তারা চিরসত্য ইতিহাসকে মুছে দিয়ে পলাতক স্বৈরাচার হাসিনা ও তার মন্ত্রী-এমপিদের খুশি করতে চেয়েছিল। তাদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা আদায় ও তাদের মন জয় করতে ওইসব নামধারী সাংবাদিকরা পেশাকে জলাঞ্জলি দিয়ে দলবাজিতে ব্যস্ত ছিল। তারা কখনও সত্যিকারের পেশাদারিত্বের সাথে সাংবাদিকতা করেনি, গণমানুষের কথা বলেনি। তারা প্রকৃত ইতিহাস মুছে দিতে চাইলেও সত্য সবসময় সত্য। সেটি উন্মোচন হবেই, হবে। এ সময় তিনি ফলকটি পুনরায় স্থাপনের উদ্যোগের কথাও জানান।
চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতারা বলেন, ১৯৭৭ সালে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে। তার হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। আমরা কালক্রমে আওয়ামী দলকানারা সেটি মুছে দেয়। নতুন প্রজন্ম আর জানতে পারেনি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে জিয়াউর রহমানরে অবদানের কথা। আজ সেটি উন্মোচিত হলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

