সাগরে জলদস্যুর হামলায় আহত ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

সাগরে জলদস্যুর হামলায় আহত ৮ মাঝিমাল্লা চমেক হাসপাতালে

কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে জলদস্যুদের হামলায় গুরুতর আহত ৮ মাঝিমাল্লাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার ভোররাতে মহেশখালী থেকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়েছে। গত তিন দিনে ওই এলাকায় ১৫টি ফিশিং ট্রলারে হামলায় অন্তত ২০ মাঝিমাল্লা আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তিনটি ফিশিং ট্রলারসহ ২৪ মাঝিমাল্লা এখনো নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন জেলে ও বোটমালিকরা।

চমেক হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন—মাহমুদুল হক মাঝি (৩৭), লকিয়াত উল্লাহ (৩২), আব্দুল মান্নান (৩৫), আব্দুল মজিদ (৩২), সাইফুল ইসলাম (২৮), মো. হাসান (২৪), সামুন (২৩) ও কামাল হোসেন মাঝি (৩৭)। এর আগে আহত কয়েকজনকে মহেশখালী ও কক্সবাজারের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত মাহমুদুল হক মাঝি জানান, সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে তারা জলদস্যুদের হামলার শিকার হন। জলদস্যুরা ছোট বোটে করে সাগরে এসে ফিশিং ট্রলারে হামলা ও লুটপাট চালায় এবং মাঝিমাল্লাদের জিম্মি করে মারধর করে। তিনি বলেন, ‘সাগরে নিরাপত্তা জোরদার না করলে ফিশিং বোট নিয়ে মাছ ধরতে যাওয়া নিরাপদ নয়। জলদস্যুদের ভয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে আমাদের সাগরে যেতে হচ্ছে।’

কালারমারছড়া জেলে কল্যাণ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমির হোসেন বলেন, গত শুক্রবার থেকে রোববার পর্যন্ত সোনাদিয়া চ্যানেলের পশ্চিমে ‘১২ বাম’ এলাকায় ১০-১২ জনের সশস্ত্র জলদস্যু দল একের পর এক ফিশিং ট্রলারে হামলা চালায়। অস্ত্রের মুখে মাঝিমাল্লাদের জিম্মি ও মারধর করে প্রতিটি ট্রলার থেকে মাছ, জাল, তেল, রসদ, মোবাইল, নগদ টাকা ও ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশসহ প্রায় ৭-৮ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নেয় তারা।

আক্রান্ত ট্রলারগুলোর মধ্যে মহেশখালীর কালারমারছড়া ইউনিয়নের মোহাম্মদ শাহ ঘোনা ঘাটের ৯টি ট্রলার রয়েছে। আহত মাঝিমাল্লারা ৫ অক্টোবর বিকেলে ঘাটে ফিরলে তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এদিকে তিনটি ট্রলারসহ ২৪ মাঝিমাল্লা নিখোঁজ থাকায় স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

এদিকে জলদস্যুদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে সাগরে অভিযান শুরু করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। কক্সবাজার, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকায় টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, জলদস্যু ও ডাকাতদের অপতৎপরতা প্রতিরোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন