দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়ন আপিলেও বৈধ ঘোষিত হওয়ার পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ডা. মো. ফখরুদ্দিন মানিক মন্তব্য করেছেন, এ আইনি পদক্ষেপ নির্বাচনি লড়াইয়ের অংশ, এতে আমাদের ব্যাক্তিগত, রাজনৈতিক এবং সামাজিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবেনা”।
আব্দুল আওয়াল মিন্টু দ্বৈত নাগরিকত্ব বিষয় নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এতে তিনি লিখছেন, “আজ ১৮ ডিসেম্বর দুপুর ১ ঘটিকায় শুনানি শেষে রায় পেন্ডিং রেখে অনেক আপত্তি সত্ত্বেও সন্ধ্যা ৬ টা ৪৫ মিনিটের পর মনোয়ন পত্র বৈধ ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।
যদিও ইতিমধ্যে আপিল খারিজ মর্মে ২ বার ব্যাপকভাবে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করেছেন কোনো মিডিয়া এবং কোনো কোনো ব্যাক্তির ফেসবুক আইডি থেকে।
এই আপিল নিয়ে অনেকের আগ্রহ এবং কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এটা একেবারে সাধারন এবং আইনি প্রক্রিয়া।
সংবিধান, আর পি ও এবং নির্বাচন আচরনবিধি প্রার্থীদের এই সুযোগ দিয়েছে। নির্বাচনে কেউ যেন বাড়তি অথবা বিশেষ সুযোগ নিতে না পারে, সে জন্য আইনের মাধ্যমে তা সুরাহা করার ব্যাবস্থা রেখেছে। নির্বাচন কমিশনের রায়ে যদি কোনো পক্ষ সন্তুষ্ট হতে না পারেন তার জন্য উচ্চ আদালতে যাওয়ার ও সুযোগ আছে।
সুতারাং এ বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি, আইন বহির্ভূত অথবা অন্যায় পদক্ষেপ হিসেবে মনে করার সুযোগ দেখিনা।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৬৬(২) গ উপধারায় দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সংসদ সদস্য হওয়ার পথ বন্ধ করা হয়েছে। এ বিষয়ে অন্য সময়ে বিস্তারিত লিখবো।
নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠ এবং নিরপেক্ষ করার জন্য সবাইকে আইন মেনে চলা উচিৎ, আইনের সর্বোচ্চ ব্যাবহারের মাধ্যমে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা রেখে সকল সংশয় দূর করে অবস্থান স্পষ্ট করবেন। যা জুলাই অভ্যুত্থান এর আকাংখা। আল্লাহ সোবানাহু তায়লা উত্তম ফয়সালাকারী।”
তিনি আরও বলেন, “আব্দুল আওয়াল মিন্টু ভাইয়ের সাথে আমার নির্বাচনি লড়াই। তিনি আমার অন্যতম প্রতিদ্বন্দী। এ লড়াই নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলবে নির্বাচনি আচরনবিধি অনুসরণ করার মাধ্যমে । জন রায়ের ভিত্তিতে এর সমাপ্তি হবে, ইনশাল্লাহ।”
তিনি ফেসবুক পোস্টে বলেন, “অতি উৎসাহী হয়ে আমার অথবা আব্দুল আওয়াল মিন্টু ভাইয়ের কোনো সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষী ভার্চুয়ালি অথবা সরাসরি বাহাস বিতর্কে লিপ্ত হয়ে নৈতিকতার সীমা লংঘন করেন, অশ্রাব্য এবং অশালীন শব্দ ব্যাবহার করেন এমনকি হুমকি, ধমকি প্রদর্শন করেন, তা আমাদের উভয়ের ব্যাক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।”
সবশেষে তিনি বলেন, “আব্দুল আওয়াল মিন্টু ভাইয়ের সাথে আমার ব্যাক্তিগত এবং সামাজিক সম্পর্ক আছে এবং থাকবে। নির্বাচনি লড়াই আমাদের ব্যাক্তিগত সম্পর্ককে প্রভাবিত করবে না। প্রবীন রাজনীতিবিদ এবং দেশের একজন প্রভাবশালী ব্যাক্তি ও আমার এলাকার সম্মানিত বড় ভাই হিসেবে উনার প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান সব সময় থাকবে। আব্দুল আওয়াল মিন্টু ভাইয়ের জন্য শুভকামনা।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

