বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫ আগস্ট পূর্বে ৫৪ বছরের বাংলাদেশের অন্যন্নরকম রুপ আমরা দেখেছি। আমরা সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতির দম্ব, ব্যাংক লুট, শেয়ার মার্কেট লুট দেখেছি। আমরা আমাদের মা বোনদের ইজ্জত ক্ষতি করতে দেখেছি। যুবককে জবাই করতে দেখেছি। এই রাজ্যে একটি পরিবার, একটি গোষ্ঠী, একটা দল ছাড়া এর বাইরে সবাইকে বিবেচনা করা হতো আমরা দেশের ভাড়াটিয়া তারাই দেশের মানুষ। ৫ তারিখের পরে অনেকের মধ্যে আত্মসমালোচনা এসেছে । অনেকের আবার চরিত্রের পরিবর্তন হয় নাই। দুইটা দেখছি আমরা। এই নির্বাচন সামনে রেখে অনেকে সোনালী কবিতা নিয়ে আপনাদের কাছে আসবেন। আমরা এই করবো, ওই করবো বাংলাদেশকে আমেরিকা বানিয়ে দিবো।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ২টায় দাউদকান্দি কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে ১১ দলীয় জোট সমর্থিত কুমিল্লা-১ আসনের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বাহলুল-এর সমর্থনে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় তিনি প্রশ্ন করে বলেন, যারা মা বোনদের রাস্তায় দেখলে কাপড় খোলে ফেলার হুমকি দেয় তারা কোন প্রজাতির? তারা মানব প্রজাতির না।
তিনি বলেন, যারা ইলেকশনের আগে এমন কথা বলতে পারে তারা ইলেকশনের পরে কি করবে সেটা বুঝা যাচ্ছে " মর্নিং সুজ দ্যা ডে" সূর্য যখন সকাল বেলা পূর্ব দিগন্তে উঠে তখন বুঝা যায় আজকের দিনটি কেমন যাবে। তারা মায়ের জাতির প্রতি কি দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন, তারা তা প্রকাশ করেছে। আমরা বলছি, মায়েদের বোনদের প্রতি সন্মান করেন। যদি তারা নিজেদের সংশোধন না করেন। মায়েরা তাদেরকে বলে দিবেন তুমি কে আমাকে বাধা দেয়ার। অনেকে হুমকি দিচ্ছে মায়েরা যেন ভোটের দিন, ভোট কেন্দ্র না যায়। কেউ যদি সংশোধন না হয়ে এমন কর্ম অব্যাহত রাখে। মায়ের সন্তানেরা বসে থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের আসমানের নিচে জমিনের উপরে সকলের সমান অধিকার। সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংবিধান ও আঠারো কোটি মানুষের উপর জুলুম করা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের বস্তাপচা রাজনৈতিকের বন্দবস্ত আর চলতে দিবো না। ওই পঁচা রাজনীতিকে এখন লাল কার্ড দেখাবো। অনেক টাকা চুরি করেছ, অনেক লুটপাট, খুন করেছ, বিদেশে বেগম পাড়া করেছ। আর বাংলাদেশের মানুষকে বিপদে ফেলেছো।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের অঙ্গিকার ইনশাআল্লাহ আমরা বাংলাদেশকে বাংলাদেশ বানাবো। এমন একটি বাংলাদেশ বানাতে চাই যে দেশের অসংখ্য বন্ধু রাষ্ট্র থাকবে। তবে, আমাদের কোন প্রভু থাকবে না। আমরা ওই দেশে বানাতে চাই আমাদের মা বোনরা ঘরে বাহিরে, কর্মস্থলে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সকল যায়গায় মায়ের মর্জাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে চলা ফেরা করবে। ওই দেশ বানাতে চাই আমাদের যুবক ভাই বোনদের হাত বেকার রাখতে চাই না। তাদের হাতে বেকার ভাতা দিয়ে অপমান করতে চাই না। আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বানাতে চাই।
জামায়াত আমির বলেন, আঠারো কোটি মানুষের মতের পতিফলন হবে। এখানে যার যার মত তাই হবে ন্যায্যতার ভিত্তিতে। আমরা এমন অলিক কোন অঙ্গিকার করবো না। যে অঙ্গিকার বাস্তবায়নের সামর্থ সরকারের থাকবে না। তবে, ন্যায়বাবিচার যখন কায়েম হবে, জনগণের অধিকার পাওয়া। সন্তানের লেখাপড়া, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, সারাজীবন যারা রাষ্ট্র ও সমাজকে দিয়ে গেছেন বৃদ্ধ বয়সে তাদের দায়িত্ব পালন এগুলো সব সরকারের দায়িত্ব। বিশেষ করে ৫ বছরের পর্যন্ত শিশুদের পাপ্য চিকিৎসা বিনামূল্যে করা হবে। একটা জাতিকে সুস্থ সবল করা না যায়। তাহলে উন্নত জাতি হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব না।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

