ধানের শীষ যতবার দেশ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছে, ততবারই দেশ ও এলাকার উন্নয়নে কাজ করেছে। বগুড়া বিএনপির ঘাঁটি। এই ঘাঁটির দায়িত্ব আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম। এই ঘাঁটির জনগণকে আপনারা দেখে রাখবেন। অতীতে নানা সময়ে আপনাদের কাছে এসেছি।
তিনি বলেন, এবার বগুড়া-৬ আসনে প্রার্থী হয়ে এসেছি। বগুড়ার সাতটি আসনেই আমাদের কর্মীদের বাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে হবে। শুধু ভোট চাইলেই হবে না। আগের চেয়ে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে।
শনিবার সকাল সোয়া ১১টায় বগুড়া নাজগার্ডেন হলরুমে জেলা বিএনপির আয়োজনে নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
জেলা বিএনপির আয়োজনে সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে, সাংগঠনিক সম্পাদক সহিদ-উন-নবী সালাম ও খায়রুল বাশারের সঞ্চালনায় এ মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন- বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট এ কে এম মাহবুবুর রহমান, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ভিপি সাইফুল ইসলাম, জয়নাল আবেদীন চাঁন, আলী আজগর তালুকদার হেনা, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরু, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, বগুড়া সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাফতুন আহমেদ খান রুবেল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির সাবেক সভাপতি মরুহুমা খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা দোয়া খায়ের করা হয়।
দলের সকল অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এসময় তিনি বলেন, আমি ও আপনারা আগে ম্যাডামের জন্য সকলেই কাজ করেছি। এখন আমি দাঁড়িয়েছি। আপনারা কাজ করেবেন। বগুড়ার ৭টি আসনেই প্রত্যেক সমর্থকদের কর্মীতে পরিণত করতে হবে। আপনাদের সাথে সরাসরি কাজ করতে পারলে ভালো লাগত ।
এখানে কোনো কোনো বক্তা বলেছেন, ভোটারের কাছে না গেলেও এখানে ধানের শীষ বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। এমন বক্তব্যের সাথে দ্বীমত করে তারেক রহমান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি এবারের নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বসে থাকলে চলবে না। সবার কাছেই যেতে হবে। বগুড়ার সাতটি আসনে বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করতে হবে। জয়ের ব্যবধান যত বেশি হবে, জনরায়ের প্রতিফলন ততটাই শক্তিশালী হবে।
এরপরে তিনি সিরাজগঞ্জের উদ্দেশে ১২টা ৪০মিনিটে রওনা হন। বনানী, বনানী বাইপাস ও শাজাহানপুর দলীয় কার্যালয়ের সামনে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ পথসভার প্রস্তুতি নিয়ে রাস্তার উভয় পাশে দাঁড়িয়ে থেকে প্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে স্বাগত জানান। উপস্থিত জনতা বিভিন্ন রকম স্লোগান দিয়ে উচ্ছাসে ফেঁটে পড়েন।
এসময় তারেক রহমান শাজহানপুরের পথসভায় বাসের মধ্যে অবস্থান করে উপস্থিত জনতাকে সালাম ও কুশল বিনিময় করে বলেন, বহুবছর পর এলাকায় এসেছি। এর আগে যখন এসেছিলাম তখন আপনাদের সাথে কথা বলে খোঁজ খবর নিতাম ও ঘুরেঘুরে উন্নয়নমূলক কাজ দেখতাম। আজকের এই পরিবেশে সেটা করা সম্ভব না।
আপনাদের উন্নয়নের জন্য বগুড়া-৭ আসনে মোরশেদ মিল্টনকে দায়িত্ব দিয়েছি। আপনারা ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে মিল্টনকে ধানের শীষে ভোট দেবেন, ইনশাআল্লাহ। তিনি আপনাদের সব কাজ করবেন।
এরপরে তিনি দুপুর ২টায় জেলার শেরপুরের ধুনট মোরে পথসভায় ভাষণ দেন। তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ধুনটমোড় ও এর আশপাশের এলাকায় হাজার হাজার নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। মহাসড়কের দুই পাশে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে থাকেন তাদের প্রিয় নেতাকে একনজর দেখার জন্য। উপজেলার কলেজরোড থেকে শেরুয়া বটতলা ও চান্দাইকোনা বগুড়া বাজার পর্যন্ত পুরো যাত্রাপথে ধানের শীষের সমর্থক ও সাধারণ মানুষ রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে তাকে বর্ণাঢ্য অভ্যর্থনা জানান। গাড়িবহর থেকে হাত নেড়ে উপস্থিত জনতার শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
এসময় তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর বগুড়ায় আসতে পেরে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করছি। বিগত সংসদ নির্বাচনে বগুড়ায় ধানের শীষের বিজয় হয়েছে। উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে সেই ধারাবাহিকতায় বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ধানের শীষ প্রর্থীকে বিজয়ী করতে আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি সকলকে ধানের শীষে ভোট দেয়ার আহবান জানান। তিনি আরো বলেন সারা দেশের মানুষ জানে বগুড়ার মাটি, বিএনপির ঘাঁটি। আপনারা আগামী ১২ তারিখে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে প্রমাণ করে দেবেন যে বগুড়া কেবল বিএনপির ঘাঁটিই নয়, এটি বিএনপির এক শক্ত ঘাঁটি।
আবেগঘন কণ্ঠে বিএনপির চেয়ারম্যান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান। বহু বছর পর শেরপুরে এসেছি। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। নির্বাচনের পর আবারো দেখা হবে ইনশাআল্লাহ। প্রিয় শেরপুরবাসী, আমরা আবারও আপনাদের এলাকার উন্নয়ন করতে চাই।
বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট ) আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ, জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক সাবেক মেয়র আলহাজ্ব জানে আলম খোকা, উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম বাবলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য কে এম মাহবুবার রহমান হারেজ, উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র স্বাধীন কুমার কুন্ডু, সাধারন সম্পাদক ফিরোজ আহমেদ জুয়েল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, ধুনট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন, জেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য আসিফ সিরাজ রব্বানী প্রমুখ এ সময় তার সাথে ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

