মুক্তিযোদ্ধার নাতি সেজে পুলিশে চাকরি, অবশেষে গ্রেপ্তার

উপজেলা প্রতিনিধি, (আখাউড়া) ব্রাহ্মণবাড়িয়া

মুক্তিযোদ্ধার নাতি সেজে পুলিশে চাকরি, অবশেষে গ্রেপ্তার

১২ বছর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযোদ্ধার নাতি বলে মিথ্যা পরিচয়ে পুলিশের কনস্টেবল পদে চাকরি নেয়ার অভিযোগে মো. শেখ সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রতারণার অভিযোগ ওঠা ওই পুলিশ সদস্যের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামের নানু মিয়ার ছেলে।

বিজ্ঞাপন

আজ সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আখাউড়া আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন পুলিশ ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম। এর আগে আখাউড়া ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে শুক্রবার বিকালে ভারত থেকে দেশে ফিরলে আখাউড়া স্থলবন্দরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার বিকালে পুলিশ তাকে কারাগারে পাঠায়। সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা হওয়ার আগেই তিনি পলাতক ছিলেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া উপজেলার মোগড়া গ্রামের নান্নু মিয়ার ছেলে মো. সুমন। ২০১২

সালে পুলিশের ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পরীক্ষায় অংশ নেন এবং মুক্তিযোদ্ধার নাতি কোটায় চাকরির জন্য প্রতিবেশী মো. হোসেন মিয়ার মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করেন। হোসেন মিয়া তার আসল দাদা নয়। তার এই প্রতারণার বিষয়ে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর স্থানীয় যুবক মো. ফরহাদ মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে অভিযোগ করেন।

পরে বিষয়টি তদন্ত করলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। তদন্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে প্রতিবেদনও দাখিল করেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. হোসেন মিয়া (অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য) তার দাদা নন। সুমনের দাদার নাম আলতাফ আলী হোসেন। অন্যের মুক্তিযোদ্ধা সনদ দাখিল করে পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়ে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন।

কুমিল্লার বুড়িচং থানায় কর্মরত থাকার সময় সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তকালেই গত বছরের ১ ডিসেম্বর

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ চাকরি থেকে অব্যাহতি নেন তিনি। ২১ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানায় মামলা করা হয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...