পটিয়ায় নানা আয়োজনে মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস পালন

উপজেলা প্রতিনিধি, পটিয়া (চট্টগ্রাম)

পটিয়ায় নানা আয়োজনে মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস পালন

চট্টগ্রামের পটিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় খরনা মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস পালন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে রোববার দুপুরে পটিয়া খরনা মুজাফরাবাদ শহীদ স্মৃতি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আলোচনা সভা, পুষ্পস্তবক অর্পণসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন, সমন্বয় কমিটি ও বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম। অনুষ্ঠানের শুরুতে তিনি বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি এনামুল হক এনাম ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগ তুলে বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নাম ইতিহাস থেকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের জনগণ জানে, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধে পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। শত চেষ্টা করেও জনগণের কাছ থেকে তার নাম মুছে দেওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, আগামী প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস জানতে হবে। মুক্তিযুদ্ধে কারা প্রকৃত অবদান রেখেছেন এবং কারা অংশ নিয়েছেন—সেসব বিষয়ে সত্য ইতিহাস তুলে ধরা জরুরি। এ সময় তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সঠিক তালিকা প্রণয়ন এবং বধ্যভূমিতে গণহত্যায় নিহতদের নির্ভুল তালিকা তৈরিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

এনামুল হক এনাম বলেন, “রাজাকারের মধ্য থেকেও এখন ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ বের হচ্ছে। কেউ কেউ মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে থেকে অভিনয় করে নিজেদের ‘শিশু মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করছে, যা দুঃখজনক।”

বধ্যভূমি সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি প্রফেসর ড. তাপসী ঘোষ রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব খোরশেদ আলম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, সাবেক চেয়ারম্যান মফজল আহমদ চৌধুরী, অ্যাডভোকেট সুজিত বিকাশ দত্ত, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নুর মোহাম্মদ, মুক্তিযোদ্ধা সুনীল বিশ্বাস, অধ্যাপক বনগোপাল চৌধুরী ও তাপস কুমার দে।

মুজাফরাবাদ গণহত্যা দিবস উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দেবাশীষ দের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য রাখেন সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিপ্লব সেন, সাধারণ সম্পাদক কাজল কর, মানিক চন্দ্র কর, অজিত চৌধুরী, বিএনপি নেতা মোহাম্মদ জসিম, সাবেক মেম্বার আবদুল কর, ডা. বি. কে. দত্ত, অজিত দত্ত পুলক, প্রদীপ কর, নিউটন বিশ্বাস ও নয়ন দাশ বর্মনসহ অনেকে।

উল্লেখ্য, ১৯৭১ সালের ৩ মে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পটিয়ার খরনা মুজাফরাবাদ গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নির্বিচারে গুলি চালিয়ে তিন শতাধিক নিরীহ নারী-পুরুষকে হত্যা করে। সেই স্মৃতিকে ধরে রাখতে স্বাধীনতার পর থেকে প্রতিবছর দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালন করা হয়ে আসছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন