জিসান হত্যার ঘটনায় একই পরিবারের ছয় সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

জিসান হত্যার ঘটনায় একই পরিবারের ছয় সদস্যসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

কক্সবাজারের চকরিয়ায় ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই কাইছার হামিদ বাদী হয়ে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চকরিয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এতে একই পরিবারের ৬ জনসহ ৭ ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। আসামির তালিকায় দুইজন নারী সদস্যও রয়েছেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা দুই দিন অতিবাহিত হলেও এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। তবে পুলিশের দাবি, মামলা দায়েরের পর এজাহারনামীয় আসামিদের গ্রেপ্তারে থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মামলার আসামির তালিকায় রয়েছেন একই পরিবারের দুই নারী সদস্যসহ ৬ জন। তারা হলেন, চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুল হোসেনের কন্যা রেজিয়া সোলতানা, তার ভাই মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ জকরিয়া, মিনহাজ উদ্দিন, নাজেম উদ্দিন ও তার স্ত্রী। তারা কৈয়ারবিল ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তারা চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সবুজবাগ আবাসিক এলাকায় কবির টাওয়ার নামে একটি বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করছেন। মামলার অপর আসামি হলেন চকরিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাটাখালী এলাকার বাসিন্দা মৃত নুরুল আবছারের ছেলে এ কে তারেক। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি দেখানো হয়েছে।

থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বাদী দাবি করেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে চকরিয়া পৌর সদরের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে মোটরসাইকেলযোগে কাকারা ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন তার ছোট ভাই জিসান। রাত ১২টার দিকে সে ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা ছাবের সওদাগরের দোকানের সামনে পৌঁছালে এজাহারনামীয় আসামিদেরসহ ৫-৬ জন মুখোশ পরিহিত যুবক তার ভাইকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে জোরপূর্বক তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে বিষয়টি তিনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা জানতে পেরে কাকারা পুলের ছড়াস্থ একটি রাইস মিলের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে নিশ্চিত হন, অপহরণকারীরা তার ভাইকে জিদ্দাবাজার হয়ে চকরিয়া পৌর সদরের দিকে নিয়ে যায়। পরে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন, অপহরণকারীরা তার ভাই জিসানকে পৌর সদরের সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে আটক করে রাখে। তাৎক্ষণিকভাবে তারা সেখানে গেলেও তার ভাইয়ের কোনো হদিস মেলাতে পারেননি। রাত আড়াইটার দিকে চকরিয়া থানা পুলিশ কবির টাওয়ারে এসে তল্লাশি চালায়। ঠিক সে সময় মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশের মাধ্যমে সংবাদ আসে, খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালা এলাকায় মহাসড়কের পাশে একটি লাশ পড়ে রয়েছে। পরে রাত ৩টার দিকে পুলিশসহ সেখানে গিয়ে নিশ্চিত হন, পড়ে থাকা লাশটি তার ভাই জিসানের। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তার ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত জিসানের বড় ভাই কাইচার হামিদ বলেন, রোববার রাতে অপহরণকারীরা তার ভাইকে অপহরণ করার পর চকরিয়া পৌর সদরের সবুজবাগ আবাসিক এলাকার কবির টাওয়ারে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যার পর খুটাখালী ইউনিয়নের মেধাকচ্ছপিয়া পাহাড়ি ঢালা এলাকায় মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। জিসান হত্যার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান নিহত জিসানের বড় ভাই ও মামলার বাদী কাইছার হামিদ।

প্রসঙ্গত, গত রোববার রাত ১২টার দিকে কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা ছাবের সওদাগরের দোকানের সামনে থেকে অপহৃত হন ছাত্রদল নেতা জিসান। সে সময় পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে করে একদল অপহরণকারী রাতের আঁধারে জিসানকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। পরে মহাসড়কের পাশ থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জিসানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে জিসানের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ। ময়নাতদন্ত শেষে সোমবার বিকেলে নিহত ছাত্রদল নেতা জিসানের নামাজে জানাজা কাকারা ইউনিয়নের নিজ গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শোকাহত নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের ঢল নামে। পরে তাকে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

নিহত ইসফাতুল ইসলাম জিসান উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লোটনী এলাকার নাজেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি ওই ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন।

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ছাত্রদল নেতা ইসফাতুল ইসলাম জিসান হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই কাইচার হামিদ বাদী হয়ে ৭ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে চকরিয়া থানায় এই মামলাটি দায়ের করেন। ওসি আরও বলেন, ছাত্রদল নেতা জিসান হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে থানা পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন