আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জ্বালানিবাহী আরো পাঁচ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

চট্টগ্রাম ব্যুরো

জ্বালানিবাহী আরো পাঁচ জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ নৌরুট হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার পরেও একের পর এক জ্বালানিবাহী জাহাজ ভিড়ছে চট্টগ্রাম বন্দরে। মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচটি জাহাজ নোঙর করেছে চট্টগ্রাম বন্দরে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ ডলফিন জেটিতে ভেড়ার পর তেল খালাস শুরু হয়েছে। বাকি দুটি জাহাজ রয়েছে বহির্নোঙরে। এ নিয়ে গত ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর থেকে ১৪ দিনে ২৩টি জাহাজ জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে। এর মধ্যে ১৮টি জাহাজ ইতোমধ্যে গ্যাস ও তেল খালাস করে ফিরে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে আরো কয়েকটি জাহাজ আসার শিডিউল আছে।

এদিকে জ্বালানিবাহী জাহাজ ও ডিপোগুলোর নিরাপত্তা বাড়িয়েছে নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড। বহির্নোঙর ও কর্ণফুলী নদীর গুপ্তখাল ডিপো সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে নোঙর করা ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তায় নদী ও সাগরে টহল জোরদার করার পাশাপাশি ডিপোগুলোর সামনেও মোতায়েন করা হয়েছে নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।

বিজ্ঞাপন

বিপিসি সূত্র জানায়, বুধবার ভোরের জোয়ারে বহির্নোঙর থেকে তিনটি ট্যাংকার ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে। এই জাহাজ তিনটির মধ্যে একটিতে এলএনজি ও দুটিতে হাই সালফার ফুয়েল অয়েল রয়েছে। প্রাচী নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি এসেছে অস্ট্রেলিয়া থেকে।

আর হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে লেডি অব ডোরিয়া এবং এসসি গোল্ড ওশান নামের জাহাজ দুটি সিঙ্গাপুর থেকে চট্টগ্রামে এসেছে। মূলত সমুদ্রগামী জাহাজে বিক্রির পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে হাই সালফার ফুয়েল অয়েল। বাকি দুটি জাহাজ রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব রেফায়েত হামিম জানান, আগামী ২০-২৩ মার্চের মধ্যে আরো চারটি এলএনজিবাহী জ্বালানিবাহী জাহাজ আসার শিডিউল রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাঙ্গোলা থেকে ‘সোনাগোল বেঙ্গুলীয়া’, ওমান থেকে ‘বিউক বোরনহোলম’ এবং মালয়েশিয়া থেকে আসা জাহাজের নাম মর্নিং জান।

এছাড়া বেস অয়েল নিয়ে এবি অলিভিয়া জাহাজটি আসবে থাইল্যান্ড থেকে। জাহাজগুলো বন্দরের জলসীমায় আসার সঙ্গে সঙ্গে বিপিসি ও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে যত দ্রুত সম্ভব বার্থিং দিয়ে জ্বালানি খালাস করা হচ্ছে।

বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের জিএম মোরশেদ হোসাইন আজাদ জানান, ১৪ দিনে জ্বালানিবাহী ২৩টি জাহাজ আসার ঘটনা প্রমাণ করে জ্বালানি নিয়ে সরকার কতটা আন্তরিক। মূলত এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটের বড় ধরনের কোনো শঙ্কা নেই। কারণ সাপ্লাইয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করছে। সংকটের কোনো খবর তারাও জানায়নি।

তিনি আরো জানান, অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করে নতুন নতুন সোর্স থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের চুক্তি করছে সরকার। ইতোমধ্যে সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন ডিজেল এবং ২৫ হাজার টন গ্যাসোলিন কেনার চুক্তি হয়েছে।

আগামী ২৭ মার্চ সেই চালানও বাংলাদেশের জলসীমায় আসবে। কয়েকদিন ধরে পাম্পগুলোতে যে রেশনিং করা শুরু হয়েছিল, সেটাও এখন নেই। মূলত সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে শুরু করেছিল। এছাড়া অসাধু ব্যবসায়ীরা মজুত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। সরকার এই বিষয়টি বুঝতে পেরেই রেশনিং শুরু করেছিল, সংকটের জন্য নয়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন