চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) তেমন শক্ত কোনো অবস্থান নেই। নগরী ও জেলায় দলটির প্রার্থীরাও তেমন পরিচিত নন। বলতে গেলে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের সঙ্গে চরমোনাইয়ের কোনো প্রার্থী নির্বাচনি দৌড়ে পেরে উঠবেন না। ইতিপূর্বে চট্টগ্রাম বিভাগে এ দলের কেউ কখনো এমপি নির্বাচিত হননি। এ অঞ্চলে ভোট না থাকলেও এখানকার ১৪টি আসনে নির্বাচন করতে যাচ্ছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
ইতোমধ্যে দলটির ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে। একটি আসনে মনোনয়ন বাতিল হলে সেটিও ফিরে পাওয়ার আশা করছেন দলটির নেতারা। শুধু তাই নয়, কমপক্ষে দুটি আসনে জয় নিয়ে সংসদে যাওয়ার আশা করছেন দলটির নেতারা। তারা বলছেন, নগরীর চট্টগ্রাম-১০ ও জেলার চট্টগ্রাম-৩ আসন কিছুতেই তাদের হাতছাড়া হবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটে থাকলে ইসলামী জোটের প্রার্থীদের এক-দুটি আসনে ভালো অবস্থানে থাকার সম্ভাবনা ছিল। এখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এককভাবে নির্বাচন করায় সেই সম্ভাবনাও নেই। তাছাড়া জেলার সব উপজেলায় দলটির সাংগঠনিক অবস্থানও অনেক দুর্বল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট থেকে বেরিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একক নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনের মধ্যে ১৪টিতে মনোনয়নপত্র জমা দেন দলটির প্রার্থীরা। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-২ আসনে কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি তারা। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে তাদের প্রার্থী মোহাম্মদ আমজাদ হোসেনের মনোনয়পত্র বাতিল হয়। বর্তমানে ১৩টি আসনে দলটির প্রার্থীদের মনোনয়পত্র বৈধ। আমজাদ হোসেনের মনোয়নপত্র বৈধ হলে প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়াবে ১৪তে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোটের দিন দুপুরে নির্বাচন বর্জন করে দলটি। সেবার তাদের কোনো প্রার্থী সাড়ে তিন হাজারের বেশি ভোট পাননি। সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৩৮২ ভোট পান চট্টগ্রাম-১১ আসনের প্রার্থী। এর আগে ২০২১ সালের চসিক নির্বাচনে প্রায় ৫ হাজার ভোট পেয়ে পরাজিত হন ইসলামী আন্দোলনের মেয়র পদপ্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম। অতীত নির্বাচনের এ পরিসংখ্যান মাঠের দুর্বলতা প্রকাশ করলেও তা মানতে নারাজ দলটির নেতারা। তারা বলছেন, আগের নির্বাচনগুলো ছিল কারচুপির নির্বাচন। এবারের চিত্র ভিন্ন। ১৬টি আসনের মধ্যে তারা কমপক্ষে দুটি আসনে জয় পাবেন। বাকিগুলোয় অন্য দলের প্রার্থীদের কাছাকাছি ভোট পাবেন।
তবে যে দুটি আসনে ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জয়ের আশা করছেন, সে দুটি আসনের বিশ্লেষণে জানা গেছে, চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে হাতপাখা প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন মাওলানা রুহুল্লাহ। তার তেমন কোনো সামাজিক অবস্থান নেই। তিনি এর আগে কখনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হননি। ওই এলাকায় এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হবে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লেয়াকত আলীর মধ্যে। লেয়াকত আলী বর্তমানে একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। প্রত্যেক ইউনিয়নে তার নিজস্ব ভোটব্যাংক আছে। দল থেকে সরে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিলেও তিনি প্রার্থিতা বহাল রাখতে অনড়। তৃতীয় অবস্থানে আছেন বিএনপির প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী। স্থানীয়রা বলছেন, ইসলামী আন্দোলনের কোনো প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভবনা নেই। তবে ফলাফলে চতুর্থ স্থানে থাকার সম্ভাবনা আছে। কিছু কওমি মাদরাসা থাকায় কওমিদের ভোটব্যাংক তার দিকে যাবে। আবার সেখানে জামায়াতের ভোটও আছে।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে দলটির প্রার্থী আমজাদ হোসেনের দ্বৈত নাগরিকত্বের কারণে মনোয়নপত্র বাতিল হয়েছে। তবে পরে তিনি প্রার্থীতা ফিরে পান। এলাকায় কোনো অবস্থান না থাকলেও বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অনুষ্ঠানে দাতা হিসেবে তার পরিচিতি আছে। বছরের অর্ধেক সময় আমেরিকায় আর বাকি সময় দেশে থাকেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী আমজাদ হোসেনের তেমন একটা পরিচিচি নেই। তবে নির্বাচনে ভোটের ফলাফলে তিনি তৃতীয় হতে পারেন। এ দুটি আসন ছাড়া দলটি মনোনীত চট্টগ্রামের অন্য ১২টি আসনের প্রার্থীরা অনেকটা দুর্বল অবস্থানে আছেন।
এছাড়া চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও-পাঁচলাইশ) আসনে প্রার্থী হয়েছেন নুরুল আলম। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড-পাহাড়তলী-আকবর শাহ আংশিক) আসনে দিদারুল মাওলা এবং চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে প্রার্থী হয়েছেন ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী। তাদের কেউ বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদের ধারেকাছেও নেই। একই ভাবে অন্য আসনগুলোয়ও দলটির হেভিওয়েট কোনো প্রার্থী নেই।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর আমির ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের প্রার্থী জান্নাতুল ইসলাম বলেন, আমরা চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-২ ছাড়া সব আসনে প্রার্থী দিয়েছি। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর-পাহাড়তলী) এবং চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে আমরা জয় পাব। বাকি আসনে জয়লাভ করতে পারার মতো সমর্থন আমাদের নেই। তবে অন্য প্রার্থীর তুলনায় আমাদের প্রার্থীর ভোট কাছাকাছি থাকবে। আগের নির্বাচনগুলো ছিল রাতের ভোট, তখন কারচুপির কারণে দল ভালো করেনি।
ইসলামী আন্দোলনের সাংগঠনিক অবস্থান জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমাদের সব উপজেলায় শক্ত অবস্থান আছে। সক্রিয় কমিটি রয়েছে। অনেক স্থানে ইউনিট কমিটিও আছে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ১১ দলীয় জোটে থাকলে তারা ভালো করতে পারতেন।
জোট থেকে বেরিয়ে আসায় তাদের ভোট কমেছে। তবে ইসলামী আন্দোলন দল হিসেবে যেমন ছোট, তেমনি প্রার্থীরাও অপরিচিত। এটি ভোটের মাঠে প্রভাব ফেলবে। আওয়ামী লীগ আমলেও তারা নির্বাচন করেছে। সে সময়ও তাদের কোনো প্রার্থী এমপি হননি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


বিএনপির কেউ দুর্বৃত্তায়নে জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে: মির্জা ফখরুল