প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবারের মতো বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) মায়ের পৈতৃক জেলা ফেনী সফর করবেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দিনব্যাপী সফরে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।
মা বেগম খালেদা জিয়ার পৈতৃক বাড়ি ফুলগাজী উপজেলার শ্রীপুরে। এ কারণে তারেক রহমানের ফেনী সফরকে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। খালেদা জিয়া ফেনী-১ আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
এ জেলার সঙ্গে তার পারিবারিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের কারণে তারেক রহমানের সফর ঘিরে স্থানীয় পর্যায়ে আলাদা আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে ফেনী শহর থেকে পরশুরাম ও ফুলগাজীর বিভিন্ন এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে প্রস্তুতি ও উৎসাহ দেখা গেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতারা বলছেন, প্রধানমন্ত্রীর এ সফর দলীয় নেতাকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে জেলার দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়েও মানুষের প্রত্যাশা রয়েছে।
ফেনীর দীর্ঘদিনের বন্যা সমস্যা নিরসন, নদীভাঙন রোধ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি রয়েছে স্থানীয়দের। বিশেষ করে জেলার উত্তরের ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণাঞ্চলে নদীভাঙন রোধের বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় ছিল।
সরকারি সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন।
এরপর ফুলগাজীর বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি। পরে ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
বিকেল ৩টায় ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেমসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের সম্মানী দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।
স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি ফেনীতে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। নির্বাচনি প্রচারে এ ধরনের প্রত্যাশা পূরণের কথা তারেক রহমান নিজেই বলেছিলেন- এমনটি বলছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে এসব দাবির বাস্তবায়ন নিয়েও নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসন নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। এরই মধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। সভাস্থলগুলোকে রেড, ইয়েলো ও হোয়াইট-এই তিন জোনে ভাগ করে নিরাপত্তাব্যবস্থা সাজানো হচ্ছে। পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।
ফেনীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে সভাস্থলগুলোকে তিনটি নিরাপত্তা জোনে ভাগ করা হবে। বিশেষ নিরাপত্তা কার্ডধারীরা রেড জোনে প্রবেশ করতে পারবেন। নির্ধারিত কার্ডধারীদের জন্য থাকবে ইয়েলো জোন। আর রেড ও ইয়েলো জোনের বাইরে থাকা হোয়াইট জোনে সাধারণ মানুষ প্রবেশ করতে পারবেন।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এসএসএফের পাশাপাশি পুলিশ, এসআরবি, বিজিবি ও কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবেন। তবে সব মিলিয়ে কতজন সদস্য মোতায়েন থাকবেন, তা নির্দিষ্ট করে জানানো হয়নি। পুলিশের পক্ষ থেকে পরশুরাম ও ফুলগাজীতে দুই হাজারের বেশি সদস্য মোতায়েনের কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর তারেক রহমানের ফেনী সফরের কথা থাকলেও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রীর ব্যস্ততার কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরে নতুন সূচি অনুযায়ী ১ অক্টোবর সফরের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

