সংঘর্ষে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন ছাত্র শিবির কর্মীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সংঘর্ষে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন ছাত্র শিবির কর্মীর

চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজে ‘জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতিতে ‘গুপ্ত’ লেখা নিয়ে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হওয়া শিক্ষার্থী ছাত্রশিবিরের নেতা। তার নাম আশরাফুল ইসলাম। তিনি নগরের আগ্রাবাদ সরাইপাড়া ওয়ার্ডের ছাত্রশিবিরের সভাপতি। একটি বেসরকারি হাসপাতালে তার অস্ত্রোপচার হয়।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার সকাল থেকে ক্যাম্পাসে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলতে থাকে, যা বেলা ১২টার দিকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। ঘণ্টাব্যাপী ধাওয়া–পাল্টা ধাওয়া ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও কলেজ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলেও ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভের মধ্যে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই সংঘর্ষে ছাত্রশিবিরের ওই কর্মীর পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়।ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দেখা যায় একজন ছাত্রশিবির কর্মীকে অন্য নেতাকর্মীরা রিকশায় তুলছেন। ভিডিওতে তার পায়ের নিচের অংশ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং গোড়ালি থেকে পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখা যায় ।

ছাত্রশিবির মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাইমুনুল ইসলাম মামুন অভিযোগ করে বলেন, পরীক্ষা দিতে আসা আমাদের কর্মীরা অপ্রস্তুত অবস্থায় হামলার শিকার হয়েছেন। এটি পরিকল্পিত আক্রমণ। ওই কর্মী তাদেরই একজন এবং সংঘর্ষের সময় তিনি গুরুতর আহত হন।

অপরদিকে ছাত্রদলের ওপর ছাত্রশিবির হামলা করেছে বলে ছাত্রদল দাবি করেছে। তাদেরও কয়েকজন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও কলেজ প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, কলেজের একটি ভবনের দেয়ালে ‘জুলাই আন্দোলনের আঁকা গ্রাফিতিতে লেখা ছাত্র রাজনীতি ও ছাত্রলীগমুক্ত ক্যাম্পাস”। কলেজ শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে গ্রাফিতির ‘ছাত্র’ শব্দটি মুছে তার ওপর ‘গুপ্ত’ শব্দ লিখে দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।

নগর পুলিশের দক্ষিণের উপ-পুলিশ কমিশনার হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূইয়া আমার দেশকে বলেন, দুই পক্ষই ছাত্র, সেজন্য আমরা হার্ডলাইনে যেতে পারিনি। দুই পক্ষকেই অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। আমরা অভিযোগ নেব, যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ অ্যাক্টিভ ভূমিকা পালন করেছে। সবসময় ঘটনাস্থলে ছিল।

নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাইফুল আলম বলেন, ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ থাকলেও একটি পক্ষ বিষয়টি নিয়ে সক্রিয় রয়েছে। গ্রাফিতি মুছে ফেলার বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। আমরা সংঘর্ষ চাই না, সহাবস্থান চাই।

অধ্যক্ষ আবু সালেহ মোহাম্মদ নঈম উদ্দিন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন