ফেনীর ৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ছয়জন ছাড়া বাকি ২০ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নিয়মানুযায়ী মোট বৈধ ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পাওয়ায় জামানত হারান তারা।
এবারের নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ঘোষিত ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ফেনী-১ আসনে মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৬৫১ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার ৫৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ হিসেবে জামানত ফিরে পেতে এ একজন প্রার্থীর দরকার ছিল অন্তত ১৭ হাজার ৪০৩ ভোট পাওয়া।
ফেনী-১ আসনে ঘোষিত ফলে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ১,১৯, ৯০৪ ভোট, জামায়াতে ইসলামির এড. এসএম কামাল উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) ৯২,০০০ভোট, ইসলামী আন্দোলনের কাজী গোলাম কিবরিয়া (হাতপাখা) ৫ হাজার ৩২৩, জাতীয় পার্টির মোতাহের হোসেন চৌধুরী (লাঙল) ৯৪০, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আনোয়ার উল্লাহ ভূঞা (বটগাছ) ৩১০, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী (ডাব) ২১৫ ও বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাহবুব মোর্শেদ মজুমদার (হারিকেন) ১৮৮ ভোট পেয়েছেন।
যারা কারণে বিএনপি প্রার্থী রফিকুল আলম মজনু ও জামায়াতের এড. এসএম কামাল উদ্দিন ছাড়া বাকি ৫ প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
ফেনী-২ আসনে মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮ জন।এর মধ্যে ২ লাখ ২৯ হাজার ২০৩ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। জামানত ফিরে পেতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল অন্তত ১৮ হাজার ৩৩৬ ভোট পাওয়া।
ফেনী-২ আসনে ঘোষিত ফলে বিএনপির জয়নাল আবেদিন ১ লাখ ৩১ হাজার ২১০ ভোট, জামায়াতে ইসলামি নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু (ঈগল) ৮০ হাজার ৫৮ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ একরামুল হক ভূঞা (হাতপাখা) ৬ হাজার ৮৪৯, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের হারুনুর রশিদ ভূঞা (রিকশা) ৮২০, আমজনতা দলের সাইফুল করিম মজুমদার (প্রজাপতি) ৮০১, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ইসমাইল (ঘোড়া) ৭০৩, গণঅধিকার পরিষদের মো. তারেকুল ইসলাম ভূঞা (ট্রাক) ৪০৯, বাসদের (মার্কসবাদী) জসিম উদ্দিন (কাঁচি) ৩২২, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মোহাম্মদ আবুল হোসেন (বটগাছ) ৩০৪, জেএসডির সামসুদ্দিন মজুমদার (তারা) ২৪০ ও ইনসানিয়াত বিপ্লবের তাহিরুল ইসলাম (আপেল) ২৩৯ ভোট পেয়েছেন।
এ হিসেবে বিএনপি প্রার্থী জয়নাল আবেদিন ও এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু ছাড়া বাকি ৯ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
ফেনী-৩ আসনে মোট ভোটার ছিল ৫ লাখ ৮ হাজার ১৯৪ জন।এর মধ্যে ২ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এ হিসেবে জামানত ফিরে পেতে একজন প্রার্থীর প্রয়োজন ছিল অন্তত ২২ হাজার ৬৩২ ভোট পাওয়া।
ঘোষিত ফলাফলে বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু ১ লাখ ৫৭ হাজার ৪২৫ ভোট, জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক (দাঁড়িপাল্লা) ১ লাখ ৮ হাজার ১৬০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের মো. সাইফ উদ্দিন (হাতপাখা) ৬ হাজার ৭০১, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান (লাঙ্গল) ১ হাজার ৪২৭, বাসদের আবদুল মালেক (মই) ৭৩১, ইসলামী ফ্রন্টের মো. আবু নাছের (চেয়ার) ৫৩১, ইনসানিয়াত বিপ্লবের হাসান আহমেদ (আপেল) ৩২৭ ও খেলাফত আন্দোলনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ খালেদুজ্জামান পাটোয়ারী (বটগাছ) ৩২০ ভোট পেয়েছেন।
এ হিসেবে বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু ও জামায়াতের মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন মানিক ছাড়া বাকি ৬ প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

