সাঙ্গু নদীতে অভিযান

বাঁশখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ৬৯টি ড্রেজার পাইপ ও এক্সকাভেটর জব্দ

বাঁশখালীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের ৬৯টি ড্রেজার পাইপ ও এক্সকাভেটর জব্দ
ছবি: আমার দেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে সাঙ্গু নদীর তীরের সাতটি স্পটে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত ৬৯টি ড্রেজার পাইপ ও একটি এক্সকাভেটর (খননযন্ত্র) জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।

বিজ্ঞাপন

বুধবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল পর্যন্ত উপজেলার খানখানাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ছটাস্থ ঈশ্বর বাবুর হাট, চৌধুরী ঘাট এবং সাধনপুর ও পুকুরিয়ার বিভিন্ন স্পটে একটানা এ অভিযান পরিচালনা করেন বাঁশখালীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজীদুর রহমান তন্ময়। অভিযানে বাঁশখালী থানার পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সার্বিক সহযোগিতা করেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাঙ্গু নদীর প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে খানখানাবাদ, সাধনপুর ও পুকুরিয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে এই সমন্বিত অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানজীদুর রহমান তন্ময় জানান, খানখানাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম রায়ছটা এবং তৎসংলগ্ন ঈশ্বর বাবুর হাট ও চৌধুরী ঘাট এলাকার চারটি বালু উত্তোলন স্পট থেকে ৬৪টি এবং সাধনপুর ইউনিয়নের দুটি স্পট থেকে পাঁচটি ড্রেজার পাইপ জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি এক্সকাভেটরও আটক করা হয়।

তিনি আরও জানান, পুকুরিয়া ইউনিয়নের তৈলারদ্বীপ ব্রিজ-সংলগ্ন এলাকায় ‘শিরোপা বিল্ডার্স’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া সাঙ্গু নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় সেখানেও অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির মূলত চন্দনাইশের ডলুখাল বালুমহাল থেকে বালু উত্তোলন ও ডাম্পিং পয়েন্ট ব্যবহারের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছিল। কিন্তু তারা অনুমোদনহীনভাবে সাঙ্গু নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল।

স্থানীয় জনগণের অভিযোগের প্রেক্ষিতে শিরোপা বিল্ডার্সের দুটি ড্রেজার পাইপ বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটিকে আগামী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তাদের অনুমোদিত বৈধ কাগজপত্র দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ব্যর্থতায় তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুকুরিয়া ও খানখানাবাদ ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ও এক্সকাভেটর বসিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলছিল। এর ফলে তীব্র নদীভাঙন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি, বসতভিটা এবং গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু বিলীনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর অস্তিত্ব রক্ষা এবং জনস্বার্থে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে এ ধরনের মোবাইলকোর্ট ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।

Ñএমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন