কক্সবাজারের উখিয়ায় এক স্কুলছাত্রকে প্রলোভন দেখিয়ে অপহরণ করে সাগরপথে মালয়েশিয়ায় পাচার এবং পরিবারের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় উখিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই কিশোরের বাবা মোহাম্মদ সোলাইমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলাইমানের ছেলে মো. খালেকুজ্জামান (১৪) ২০২৬ সালে পালংখালী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে দশম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দুপুরে অভিযুক্ত কফিল উদ্দিন রাফি ও তার সহযোগীরা টেকনাফের বাহারছড়া এলাকায় বেড়াতে নেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
পরবর্তীকালে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকার একটি দুর্গম পাহাড়ে তিন দিন আটকে রাখার পর অন্য কয়েকজন ভিকটিমের সঙ্গে সাগরপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর পরিবারের দাবি, মিয়ানমার উপকূলীয় এলাকায় সাগরে অবস্থানকালে একটি বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে শিশুটির কান্নাজড়িত কণ্ঠ শোনানো হয় এবং তাকে নিরাপদে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার শর্তে চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে অভিযুক্তদের কথামতো পরিবারের সদস্যরা নগদ চার লাখ টাকা প্রদান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মুক্তিপণের টাকা দেওয়ার পরও দালালচক্র ওই কিশোরকে মিয়ানমার-থাইল্যান্ড সীমান্তবর্তী সাগর এলাকায় নৌকায় রেখে শারীরিক নির্যাতন চালায়।
একপর্যায়ে তাকে মালয়েশিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে মালয়েশিয়ায় আটক অবস্থায় বিষয়টি জানতে পেরে পরিবারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সরকারের সহায়তায় জরিমানা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে বৈধভাবে বিমানযোগে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ ঘটনায় মোহাম্মদ সোলাইমান উখিয়া থানায় কফিল উদ্দিন রাফি ও তার পিতা আবু তাহেরসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজনকে আসামি করে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করেছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে সহজ-সরল যুবক ও কিশোরদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে সাগরপথে অবৈধভাবে মালয়েশিয়ায় পাচারের সঙ্গে জড়িত। আমার ছেলেকেও পাচার করি দিয়েছেন৷ এখন আমি অভিযোগ দেওয়ার পরে হুমকি দিচ্ছেন অভিযুক্ত কফিল উদ্দিন রাফি৷
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কফিল উদ্দিন রাফির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি৷
উখিয়া থানার ওসি মুজিবুর রহমান বলেন, মানবপাচারকারী ও মাদক কারবারিদের এই এলাকায় কোনো স্থান নেই। অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

