লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুন, আসামিকে বাঁচাতে বাদী-সাক্ষীর নামে অপহরণ মামলা

লক্ষ্মীপুরে জোড়া খুন, আসামিকে বাঁচাতে বাদী-সাক্ষীর নামে অপহরণ মামলা

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে তিন বছর আগের চাঞ্চল্যকর জোড়া খুন মামলাকে প্রভাবিত করতে প্রতিপক্ষ সাজানো ‘অপহরণের নাটক’ সাজিয়ে মূল মামলার বাদী ও প্রধান সাক্ষীকে গ্রেপ্তার করিয়েছে বলে চরম অভিযোগ উঠেছে। বাদী মো. জুয়েল ও সাক্ষী মো. মিলনকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের লম্বাখালী এলাকায় সর্বস্তরের স্থানীয় জনগণের উদ্যোগে এক মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আব্দুল মালেক, সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান হেলাল, বিএনপি নেতা কাজল পঞ্চায়েত, সাবেক ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম হাওলাদার, জিয়া সাইবার ফোর্স কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন উদ্দিন রাসেল, রামগতি উপজেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক রাসেল পঞ্চায়েত, যুবদল নেতা খবির হোসেন, ছাত্রদল নেতা মেজবাহ উদ্দিন এবং জুয়েলের মা আংকুরি বেগমসহ অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর চরকলাকোপা গ্রামে মাদকাসক্ত সুমন তার স্ত্রী রাশেদা আক্তার (২২) ও শ্বশুর বাদশা মিয়াকে (৫০) নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে এবং শাশুড়ি আংকুরি বেগমকে মারাত্মক আহত করে।

বাদশার ছেলে মো. জুয়েল বাদী হয়ে রামগতি থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তুলে নিতে শুরু থেকেই সুমনের পরিবার ভয়ভীতি ও প্রলোভন দিয়ে আসছিল। এতে রাজি না হওয়ায় সুমনের ভাই জয়নাল আবেদীন তার ছেলে সৌরভ হোসেনকে অপহরণের ভুয়া নাটক সাজান। এর ভিত্তিতেই পুলিশ বাদী জুয়েল ও সাক্ষী মিলনকে গ্রেপ্তার করে জেলা কারাগারে পাঠায়।

বাদশার স্ত্রী ও মামলার প্রত্যক্ষদর্শী আহত আংকুরি বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী ও মেয়েকে সুমন কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমরা মামলা প্রত্যাহার না করায় প্রতিপক্ষ জয়নাল তার ছেলেকে অপহরণের নাটক সাজিয়ে আমার ছেলে জুয়েলকে ফাসিয়েছে। তারা সম্পূর্ণ নির্দোষ।

থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ আগস্ট রাতে রামগতির পুরান কলোনী ব্রিজ এলাকা থেকে সৌরভ হোসেন (১৬) নামের এক কিশোরকে অপহরণের অভিযোগে তার বাবা জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে ৪ সেপ্টেম্বর রামগতি থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ সেই মামলায় জুয়েল ও মিলনকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে জয়নাল আবেদীনকে এলাকায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে মামলা দায়ের এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পূর্ববিরোধের জের ধরে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে অধিকতর তদন্ত চলছে, কারও কোনো আপত্তি থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন