জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জটিলতায় দুই বছর ধরে বেতন বন্ধ সরকারি এক শিক্ষিকার। ভুলক্রমে দ্বৈত ভোটার হওয়ায় কক্সবাজার কুতুবদিয়া উপজেলার ঘিলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এখন।
সংসারে অভাব অনটনে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে এফটিএম চৌধুরী নূ-মীম (১৪) বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছিল গত শনিবার। খবর পেয়ে পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার পর এ যাত্রা বেঁচে যায়।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা জানান, ১০ বছর ধরে তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি করছেন। চট্টগ্রামে চাকরিজনিত কারণে ভুল করে চট্টগ্রাম দক্ষিণ হালিশহর এলাকায় ভোটার হয়েছিলাম। পরে সরকারি চাকরি হলে নিজ গ্রামের ঠিকানায় নতুন ভোটার হয়ে ২০১৭ সালে আগের এনআইডি বাতিলের আবেদন করেন। বিদ্যালয়ের বেতন-ভাতা গ্রহণে অনলাইন সিস্টেম চালু হলে এনআইডি জটিলতায় তার বেতন বন্ধ হয়ে যায়। এনআইডি সংশোধনে পরপর তিনবার আবেদন করা হয়। সব কাগজপত্র দেওয়ার পরেও সংশোধন না হওয়ায়, গত দুই বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। দুইটি সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন পার করছেন বলে জানান এই শিক্ষিকা।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার চৌধুরী আজিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমরা আগে জানতে পারিনি। এনআইডি সংশোধন হলে তিনি নিয়মিত ভাতা ভোগ করতে পারবেন।
উপজেলা নির্বাচন অফিসার নুরুল ইসলাম বলেন, আগের এনআইডি বাতিলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় রিপোর্ট দেওয়া হবে। এটি চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় নিষ্পত্তি করবেন।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

