বাদ যায়নি জিয়া-খালেদা ও তারেক রহমানের ছবি

কুমিল্লায় বিএনপি কার্যালয়ে যুবদলের হামলা-ভাঙচুর

কুমিল্লায় বিএনপি কার্যালয়ে যুবদলের হামলা-ভাঙচুর
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে লালমাই উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কার্যালয়ে থাকা চেয়ার, টেবিল, ব্যানার-পোস্টারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দলটির নেতারা দাবি করেছেন। এ সময় স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয় বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার বিকেলে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত উপজেলা বিএনপি নেতা আনোয়ার উল্যাহ, আক্তারুজ্জামান রকেট, হাফেজ বিল্লাল হোসেন, মাহবুব আলম, আসলাম মজুমদার ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের নেতৃত্বে দুই শতাধিক নেতাকর্মী বিকেলে কুমিল্লা-বাঙ্গড্ডা সড়কের বাগমারা বাইপাস এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বাগমারা দক্ষিণ বাজার এলাকায় কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কে পৌঁছালে সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।

এ সময় মিছিলকারীদের মধ্য থেকে যুবদল ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়। হামলাকারীরা কার্যালয়ের দেয়ালে সাঁটানো বিএনপির কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের ছবিসংবলিত পোস্টার ও ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। কার্যালয়ের একটি বড় টেবিলসহ তিন শতাধিক চেয়ার ভাঙচুর করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

লালমাই উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউছুফ আলী মীর পিন্টু অভিযোগ করে বলেন, তিনি লালমাইয়ের একটি উন্নয়নমূলক কাজের দাপ্তরিক বিষয়ে খোঁজ নিতে গত দুই দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন। দলীয় কর্মীদের মাধ্যমে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিনি জানতে পেরেছেন, সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ আলম, ইকবাল হোসেন মজুমদার, যুবদল নেতা মানিক হোসেন ও সোহরাব হোসেনের নেতৃত্বে কিছু লোক বিএনপির কার্যালয়ে ভাঙচুর করেছেন।

বিএনপি নেতা ইউছুফ আলী মীর পিন্টু আরও বলেন, তাদের ভাঙচুর থেকে স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবিও বাদ যায়নি।

হামলাকারীরা বিএনপি অফিসের চেয়ারসহ কিছু ব্যানার-পোস্টার নিয়ে গেছে। অফিসের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে মিটারসহ ১৬টি বৈদ্যুতিক পাখা নষ্ট করে দিয়েছে। এ ধরনের হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক জাবের আহমেদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, বিএনপি কার্যালয়ের শাটারের তালা ভেঙে হামলাকারীরা ভেতরে প্রবেশ করে কিছু চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করেছে। আমরা গিয়ে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করি। এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। কেউ লিখিত অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাতে সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া সমর্থিত বিএনপি নেতা মাওলানা জাকির হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। রাত ১০টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই বাজার এলাকার একটি খাবার হোটেলে হেলমেট পরিহিত কয়েকজন ব্যক্তি তাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়। পরে আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এআরবি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন