প্রথম কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম মুনলাইপাড়া

প্রথম কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম মুনলাইপাড়া
বান্দরবানের কমিউনিটি বেইজড ট্যুরিজম । আমার দেশ

পাহাড়ের গায়ে যেন জলরঙে আঁকা এক নিটোল ছবি। বান্দরবানের রুমা সদর থেকে বগালেকের পথে মাত্র তিন কিলোমিটার এগোলেই চোখে পড়বে রাস্তার দুপাশে ছিমছাম ও সাজানো এক পাহাড়ি জনপদ মুনলাইপাড়া। সবুজের কোলঘেঁষা পথঘাট, বাতাসে পাহাড়ি বুনো ফুলের গন্ধ আর চারপাশের সুশৃঙ্খল পরিবেশ যে কারো চোখ জুড়িয়ে দেয়। শুধু পাহড়ে নয়, সারা দেশের মধ্যে ‘সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রাম’ হিসেবে এরই মধ্যে পরিচিতি পাওয়া এই পাড়ার স্বপ্ন এখন আরো বড়।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিটি ঘরের সামনে তাকালেই চোখে পড়ে বাসিন্দাদের সুরুচির ছাপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। রয়েছে বাঁশের তৈরি পরিচ্ছন্ন ডাস্টবিন। আর বর্ষা এলেই পাড়ার তরফ থেকে বেঁধে দেওয়া হয় অন্তত ১০টি নতুন ফুলের চারা লাগানোর লক্ষ্য। ঝরা পাতার টুকরোটিও ডাস্টবিনে ফেলার এমন নিষ্ঠার কারণেই প্রতি বছর সেরা পরিচ্ছন্ন বাড়িকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা। ১৩৮৩ বঙ্গাব্দে মাত্র ১৫টি বম পরিবার নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই পাহাড়ি গ্রামে আজ ৭০ পরিবারের প্রায় ৩৫০ মানুষের বসবাস। অধিকাংশ পর্যটক মুনলাই পাড়াকে চেনেন কেবল এর ধোপদুরস্ত পরিচ্ছন্নতার জন্য। কিন্তু এই তকতকে রূপের অন্তরালে লুকিয়ে রয়েছে পাহাড়ি সমাজের এক অনন্য যৌথ শক্তির গল্প। পাড়া কমিটির সভাপতি রোয়ানলিয়াম সিংনেম বম জানান, মুনলাইপাড়ায় কোনো একক ব্যক্তি পর্যটন ব্যবসা কিংবা ভূমির একচ্ছত্র মালিক নন। কটেজ পরিচালনা, রোমাঞ্চ, কিংবা ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি খাবারের আয়োজন—সবকিছুই চলে পূর্ণ সমবায়ের নীতিতে। অর্জিত আয়ের একটি অংশ জমা হয় গ্রামের কেন্দ্রীয় তহবিলে। সেই সঞ্চয় থেকেই নিশ্চিত হয় শিশুদের পড়াশোনা, জরুরি চিকিৎসাসেবা, কিংবা বর্ষায় ধসে পড়া পাহাড়ি ট্রেইল মেরামতের খরচ। এটি কেবল কোনো পর্যটন স্পট নয়, এটি দেশের প্রথম ‘কমিউনিটি-বেইজড ট্যুরিজম’ বা সমাজভিত্তিক পর্যটনের জীবন্ত নিদর্শন।

বিজ্ঞাপন
Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন