বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের সাংবাদিকদের সংগঠন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর বিতর্কিত নির্বাচন বন্ধ চেয়ে আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার বরাবর অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এ অভিযোগপত্র জমা দেন সংগঠনের একাধিক সদস্য।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও রেজিস্ট্রার অব ট্রেড ইউনিয়ন আবুল বাশার।
জানা গেছে, ২০২২ সালে বিএনপি-জামায়াত মতাদর্শের সাংবাদিকদের সমন্বয়ে গঠিত হয় সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনী। ওই বছর কুমিল্লা আঞ্চলিক শ্রম দপ্তর থেকে নিবন্ধন লাভ করে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন প্রকাশ সিদ্দিক মামুন এককভাবে সংগঠনের নিয়ন্ত্রণ নেন।
এ নিয়ে সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানসহ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সভাপতি সিদ্দিক মামুনের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যে কোনো সাধারণ সভা করা হয়নি এবং আর্থিক কোনো হিসাবও সদস্যদের জানানো হয়নি। এর মধ্যেই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়।
রেজিস্ট্রার দপ্তরের অনুমতি ও কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই গত ১৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গঠন ও তফসিল ঘোষণা করেন সভাপতি সিদ্দিক মামুন। নির্বাচন কমিশনে তার নিকটাত্মীয় ও পত্রিকার প্রতিনিধি মুনির হোসাইনকে প্রধান করা হয়েছে এবং তার পত্রিকার প্রতিনিধি মোহাম্মদ শারীদ ও ওবায়েদ উল্যাহকে সহকারী নির্বাচন কমিশনার করা হয়েছে।
এছাড়া কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই আগের সাধারণ সদস্যদের নাম বাদ দিয়ে তার অনুগত ও তারই পত্রিকার প্রতিনিধি সাজিয়ে ৫৫ জনের একটি ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এ ৫৫ জনের মধ্যে ৩৫ জনই নতুন।
অন্যদিকে প্রথম সারির জাতীয় দৈনিকগুলোর জেলা প্রতিনিধিদের আগ্রহ সত্ত্বেও তাদের সদস্য করা হয়নি। এসব অনিয়মের তদন্ত ও ঘোষিত নির্বাচন বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কমিটির সদস্য আবরার হোসেন চৌধুরী, হাবিবুল্যাহ ও আবু তাহেরসহ ছয়জন।
আবরার হোসেন বলেন, ইউনিয়নের বর্তমান সভাপতি সিদ্দিক মামুন ক্ষমতার অপব্যবহার করে শ্রম দপ্তরের কোনো নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে এক তরফা তার মনোনীত লোকদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন, তফসিল ঘোষণা ও ভোটের দিন ধার্য এবং ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন, সভাপতির একক সিদ্ধান্তে গত তিন বছর কমিটি চলছে। এ নিয়ে কমিটির সব কার্যক্রমে স্থবির। এর মধ্যেই তিনি একক সিদ্ধান্তে নিজ ঘরানার লোকদের সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করে তফসিল ও ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছেন। বিধি অনুযায়ী রেজিস্টার দপ্তর ও ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নকে অবহিত করা হয়নি।
কুমিল্লা আঞ্চলিক শ্রম অধিদপ্তরের উপপরিচালক ও রেজিস্টার অব ট্রেড ইউনিয়ন মো. আবুল বাশার বলেন, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর ছয় সদস্যের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। দ্রুত তদন্ত করে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

