আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

জুলাইয়ের মামলায় জামিন

প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লা প্রতিনিধি

প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি মারা আ. লীগ নেতার বিরুদ্ধে মামলা

কুমিল্লায় জামিনে বেরিয়ে কর্মস্থলে গিয়ে প্রধান শিক্ষিকাকে লাথি ও মারধর করেন জুলাইয়ের মামলার আসামি আওয়ামী লীগ নেতা। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী।

গত সোমবার রাতে ১১ জনের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণপাড়া থানায় মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী হাসিনা ইসলাম। মামলার প্রধান আসামি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সুজন।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, গত রোববার ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাসিনা ইসলামকে মারধর ও লাথি মারার ঘটনা ঘটে। এসময় আমিনুলের চাচাতো ভাই সিদলাই ইউনিয়ন যুবদলের সদস্য সচিব সোহেল রানা প্রায় অর্ধশতাধিক দলীয় কর্মী নিয়ে স্কুলে মব করেন বলে অভিযোগ উঠে।

জানা যায়, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের বরখাস্ত হওয়া প্রধান শিক্ষক আওয়ামী শাসনামলে আমিনুল ইসলাম সুজন রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে জাল সনদে প্রধান শিক্ষক হয়েছিলেন। এরপর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনে পাশ করে ক্ষমতার প্রভাবে পাঁচ বছরের ছুটি নেন। বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত হবার পর উভয় কর্মস্থল থেকে বেতন নেন। ভুয়া রেজুলেশন এবং ডিজির স্বাক্ষর জাল করায় ২০১৯ সালে চাকরি থেকে বরখাস্ত হন।

সম্প্রতি সুজন দাবি করেন, আদালত তার পক্ষে রায় দিয়েছে। এমন দাবি করে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে তিনি আবারো কর্মস্থলে যোগদান করেন। এরপর থেকেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্র শুরু করেন। পরে সকালে এসে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার ওপর হামলা করে আমিনুল ইসলাম সুজন ও সোহেল রানা।‌

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর স্কুল থেকে ছুটি নিয়েছি। তখন আমি ২০১৯ সাল সহকারী শিক্ষক হাসিনা ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়েছি। তারপর ষড়যন্ত্র করে আমাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আমাকে বলেছেন বিদ্যালয়ে যোগদান করার জন্য। সেজন্য আমি যোগদান করতে যাওয়ার পর তার সঙ্গে ঝামেলা হয়।

ভুক্তভোগী শিক্ষক হাসিনা ইসলাম বলেন, গত রাতে (সোমবার) আমিনুল ইসলাম সুজনসহ ১১ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছি। কিন্তু পুলিশ আসামি ধরছে না। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই ।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা জাহান বলেন, হাইকোর্টের রায় পাওয়ার পর আমি প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছি। কিন্তু আমিনুল ইসলাম সুজনের লোকজন এভাবে হামলা করবে, স্কুলে মব করে প্রধান শিক্ষিকাকে মারধর করবে এটা বুঝতে পারিনি। পুলিশ তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ওসি সেলিম আহমেদ বলেন, সোমবার রাতে হাসিনা ইসলাম মামলা করেছেন। এই ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

প্রসঙ্গত, অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় মামলা রয়েছে। এ মামলায় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। প্রায় এক মাস আগে জেল থেকে জামিনে বের হন তিনি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন