সারা বছরের পরিশ্রম ধারদেনা করে করা বিনিয়োগ আর ভালো ফলনের আশায় বুক বাঁধা সবকিছুই যেন এক রাতের ঝড়ে তছনছ হয়ে গেছে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া গ্রামের কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলমের। প্রচণ্ড ঝড়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে তার ৩০ শতক জমির আখ। এতে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
গত সোমবার রাতে কুমিল্লা বুড়িচং উপজেলার বালিখাড়া এলাকায় প্রচণ্ড ঝড় বয়ে যায়। ঝড়ের তাণ্ডবে জাহাঙ্গীর আলমের আখের ক্ষেতের বেশিরভাগ আখ মাটিতে পড়ে যায়। সকালে ক্ষেতে গিয়ে এমন দৃশ্য দেখে ভেঙে পড়েন তিনি।
কৃষক জাহাঙ্গীর আলম জানান, আখ চাষের জন্য তিনি এক লাখ টাকারও বেশি ঋণ করেছেন। ফসল বিক্রি করে সেই ঋণ পরিশোধের পাশাপাশি পরিবারের খরচ মেটানোর স্বপ্ন ছিল তার। কিন্তু ঝড়ে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করবেন, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার দুপুরে জমিতে লুটিয়ে পড়া আখগুলো উঠানোর চেষ্টা করছেন । অশ্রু সিক্ত নয়নে জাহাঙ্গীর আলম আমার দেশকে বলেন, ‘অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে আখ চাষ করেছিলাম। ফসল ভালো হলে ঋণ পরিশোধ করতে পারতাম। কিন্তু এক রাতের ঝড়ে সব শেষ হয়ে গেল। এখন ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেটাই বুঝতে পারছি না।”
স্থানীয় কৃষক সোলায়মান এবং সোহেল রানা বলেন, ঋণ করে তিনি ৩০ শতক জমিতে আখ চাষ করেছিলেন। এখন যেভাবে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে তার প্রচুর লোকসান গুনতে হবে। সরকারের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো ।
বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত আখের ক্ষেতের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ ও সরকারি সহায়তার আওতায় আনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসনও। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভির হোসেন আমার দেশকে বলেন, ‘বিষয়টি এখন আপনার কাছ থেকেই জানতে পারলাম। কৃষকের খোঁজ নিয়ে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার চেষ্টা করব।”
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-ec6c9f.jpg)