চরফ্যাশনে মিয়ানমারে পাচারের সময় ২৯৩ বস্তা সারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় সার পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও একটি বড় ফিশিং বোট জব্দ করা হয়।
বুধবার ভোর ৪টায় চরফ্যাশন উপজেলার আসলামপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বেতুয়া নতুন ফিশারি ঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, নোয়াখালী জেলার আছিউল আলমের ছেলে সিরাজ (৬০), চরফ্যাশন উপজেলার মুফাজ্জল হোসেনের ছেলে পারভেজ (৪০), নোয়াখালীর অহিদ হাওলাদারের ছেলে সোহেল (৩২) এবং একই জেলার নবি উদ্দিনের ছেলে শাহারাজ (৪৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেতুয়া ফিশারি ঘাট এলাকায় একটি বড় মৎস্য বোটে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে সার তোলা হচ্ছিল। বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে তারা চরফ্যাশন থানায় খবর দেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ২৯৩ বস্তা সার জব্দ করে এবং বোটে থাকা চারজনকে আটক করে। সকালে সার ও ব্যবহৃত ট্রাকসহ আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে আসা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঘাট এলাকার এক মাঝি জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই নৌ-রুটে মিয়ানমারে সারসহ নানা পণ্য পাচার করে আসছে। অন্যদিকে মিয়ানমার থেকে আসার সময় তারা ভোলা জেলায় মাদকের চালান নিয়ে আসত।
এ বিষয়ে চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘বেতুয়া নতুন ফিশারি ঘাট থেকে ২৯৩ বস্তা ইউরিয়া সার, একটি ট্রাক এবং বিভিন্ন জেলার ৪ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে আমরা তথ্য পেয়েছি। চরফ্যাশন থানার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।
সারের বস্তাগুলো কোথা থেকে এবং কি উদ্যেশ্যে এখানে আনা হয়েছে এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায় নি। চরফ্যাশন থানা পুলিশ এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছে। আটক সারের বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারজনকে আটক করা হয়েছে এবং পাচারকালে ২৯৩ বস্তা সার ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। ঘাটে থাকা বোটটির বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

