অতিবর্ষণে রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে পাহাড় ধসে পড়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসরতদের নিরাপত্তায় মাইকিং করা হয়েছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে বান্দরবানে পাহাড়ে ঝুঁকি মোকাবিলায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কাপ্তাই (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি জানান, রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার ৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের বালুচরা এলাকায় টানা অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসে একটি বড় গাছ উপড়ে সড়কের ওপর পড়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ের মাটি ধসে সড়কের ওপর জমা হওয়ায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে সড়কে সব ধরনের যানবাহন ও সাধারণ মানুষের চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি এলাকাটি বিদ্যুদ্বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল। ইউপি সদস্য মোহাম্মদ সরোয়ার এবং প্রত্যক্ষদর্শী কাপ্তাই বিউবো স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক নুরুল কবির করিমী জানান, সোমবার রাত থেকে টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে গাছ ও পাহাড় ধসে পড়ে। এতে উভয় দিক থেকে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেলোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় গাছ অপসারণ ও সড়ক পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস, বন বিভাগ, পিডিবি এবং স্থানীয়রা মিলে সড়ক থেকে গাছ ও মাটি অপসারণ করে যান চলাচলের উপযোগী করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের সংবাদ পাওয়া যায়নি। কাপ্তাই নতুন বাজার ঢাকাইয়া কলোনির প্রায় ৫০০ পরিবার পাহাড়ের ঢালুতে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বসবাস করছে।
কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হানুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, কাপ্তাই সহকারী তথ্য অফিসার দেলোয়ার হোসেন ও কাপ্তাই প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেন। পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে আসার জন্য মাইকিং করা হয়েছে। কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলাম জানান, ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসকের নির্দেশক্রমে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে ১৮টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যারা আশ্রয়কেন্দ্রে আসবেন, তাদের উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাওয়াসহ নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের ফলে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস ও বসতভিটার ক্ষতিসাধনের খবর পাওয়া যায়।
বান্দরবান প্রতিনিধি জানান, টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টিপাতে বান্দরবানে জনজীবনে সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। জেলার প্রধান দুই নদী সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মঙ্গলবার কোথাও বড় ধরনের দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
তবে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ছোট আকারের পাহাড়ধস, পাহাড়ি ঢল ও সড়কে জলাবদ্ধতার ঘটনা ঘটেছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার রাতে জেলায় ১৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১২৮ মিলিমিটারে নেমে এলেও দুপুরে আবারও শহরজুড়ে ভারী বর্ষণ হয়। টানা বর্ষণের কারণে নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো জেলার সাত উপজেলায় পাহাড়ধস প্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সার্বক্ষণিক নজরদারি বাড়িয়েছে।
এদিকে বৈরী আবহাওয়ার কারণে পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত বান্দরবানের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার রাতে জারি করা এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌসী বলেন, অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে জেলার বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পর্যটক ও জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরো জানান, পাহাড়ধস প্রবণ এলাকা, নদী তীরবর্তী বসতি এবং নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষকে অপ্রয়োজনীয় চলাচল এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও জরুরি প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

