কুমিল্লায় জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেছেন, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই পরিকল্পিতভাবে অপ্রতিমকে হত্যা করা হয়। হত্যার ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ, কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া আটক করা হয়েছে সিয়াম নামে আরো একজনকে।
রোববার দুপুরে কুমিল্লায় কিশোর অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পুলিশ সুপার বলেন, বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করা হয়, পরে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।
মো. আনিসুজ্জামান বলেন, জিডির ভিত্তিতে এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করা হয়। সিসিটিভির ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তুহিন অপ্রতিমকে সঙ্গে নিয়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে আটক করা হয়। পরে নিখোঁজ অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়। এর সঙ্গে যুক্ত ছিল ফাহাদ। পরে ফাহাদকে আটক করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, কামরুলও জড়িত ছিল। এরপরই তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তুহিনের বাসা থেকে আইফোন উদ্ধার করা হয়।
দুই দফা জানাজার নামাজ শেষে কুমিল্লার কোটবাড়ির বাগমারা গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাগমারা কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
এর আগে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে (মসজিদের সামনে) এবং দ্বিতীয় জানাজা বাগমারা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজা শেষে অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই, আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর এখনো পর্যন্ত আমার পূর্ণ আস্থা আছে। তবে সামান্য একটা আইফোনের জন্য আমার ছেলেকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে—এ কথা আমার মন কোনোভাবেই বিশ্বাস করতে পারছে না। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সি নিষ্পাপ ছেলেটা তো কোনো অপরাধ করেনি; তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।’
আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমার ছেলে যাদের সঙ্গে গিয়েছিল, তাদের সে নিজের বন্ধু ভেবে বিশ্বাস করেছিল। তাদের কাঁধে স্নেহের হাত রেখে আমার ছেলে হাসিমুখে হাঁটতে হাঁটতে ওই পাহাড়ের দিকে গিয়েছিল। সে মনে করেছিল ওগুলো বন্ধুর ভালোবাসার হাত, কিন্তু সেই বিশ্বাসের হাতগুলোই শেষ পর্যন্ত আমার মাসুম বাচ্চাটাকে হত্যা করল!’
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের লাশ শনিবার দুপুরে কুবি ক্যাম্পাসসংলগ্ন লালমাই সানন্দা পাহাড়ি এলাকার একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। আইফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে পরিকল্পনা করে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


