কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহ, ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহ, ভিডিও ভাইরাল

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিলে কিশোর গ্যাং গ্রুপ সিভিকে (CBK)-এর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহকে দেখা গেছে ।

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার কুমিল্লা মহানগরে যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহ ভিডিওটি ভাইরাল হয় ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। নেটিজেনদের অভিযোগ, যারাই ক্ষমতায় আসে, তাদের ওপরই ভর করে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। তারই একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ কুমিল্লায় যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের মিছিলে কিশোর গ্যাংয়ের উপস্থিতি।

সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীতে সিবিকে গ্রুপের একটি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। সেই মহড়ায় বড় রামদা হাতে মিছিলের সামনে দেখা যায় এই তানজিম আব্দুল্লাহকে। তখনও রামদা হাতে ওই ছবিটি নিয়ে কুমিল্লায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল।

জানা যায়, এই মিছিলে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং ছাত্রদলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সিবিকে (CBK) গ্রুপের প্রধান তানজিম আব্দুল্লাহকে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাতিন ইশরাক মোল্লা ও ফজলে রাব্বি আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছেন বলে ‘আমার দেশ’-এর অনুসন্ধানে তথ্য উঠে আসে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ফাতিন ইশরাক দৈনিক ‘আমার দেশ’-কে বলেন, ‘ছোটকাল থেকেই সে আমার সাথে চলাফেরা করে। হঠাৎ করেই ভিন্ন পথে পা দিয়েছিল। গত এক বছর ধরে তার এমন কোনো কর্মকাণ্ড দেখিনি। এরপরও যদি সে কিশোর গ্যাংয়ের সাথে জড়িত থাকে, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।’

মিছিলে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়াজ উদ্দিনের পেছনেই ছিল কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহ। এ বিষয়ে রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘মিছিলে কত জনই তো আসে, আমি খেয়াল করিনি। যতদূর জানি, সে কুমিল্লা সার্ভে ইনস্টিটিউটের ছাত্র ছিল। এর বেশি কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম আব্দুল্লাহকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এদিকে শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ২৫৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ বিষয়ে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ততা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

উল্লেখ্য, গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের হত্যাকাণ্ডের পর কিশোর গ্যাংয়ের জড়িত থাকার বিষয়টি সামনে আসে। ফলে কুমিল্লা জেলা পুলিশ ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে জেলার ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে ৬২৫ জন এবং গত রাতে আরো ২৫৪ জনকে কিশোর গ্যাং সন্দেহে আটক করে।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন