চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ আলম বলেছেন, চট্টগ্রামে অপরাধ বা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে কেউ পার পাবে না। যে-ই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়াবে, তার পরিণতি হবে ডেভিড ইমনের মতো। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় এসপি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মাসুদ আলম বলেন, ‘বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী খান ওরফে বড় সাজ্জাদের বাহিনীর অন্যতম শুটার ছিলেন ডেভিড ইমন ও তার তিন সহযোগী। তাদের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে বাহিনীটির সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধাক্কা লেগেছে। বড় সাজ্জাদের চেইন এখন ভেঙে যাচ্ছে। রায়হান আলম আমাদের নজরদারির বাইরে নয়। সে দেশে আছে। বোরহান নামে আরো একজন সন্ত্রাসীও আমাদের নজরদারিতে রয়েছে।’
এসপি দাবি করেন, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ফলেই ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ এলাকায়ও চেকপোস্ট বসানো হয়েছিল। পরে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে যশোর সীমান্তে নজরদারি জোরদার করা হয়।
তিনি জানান, ঢাকায় অবস্থানকালে ডেভিড ইমন ও তার সহযোগীরা একাধিকবার কৌশল বদলান। পোশাক, ব্যবহৃত গাড়ি এমনকি চালকও পরিবর্তন করেন। এরপর খুলনা হয়ে যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করলে যশোরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় বসানো চেকপোস্ট থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাসুদ আলম দাবি করেন, ডেভিড ইমনের কাছ থেকে ভারতের একটি আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। ভারতে পালিয়ে নিরাপদে অবস্থানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বড় সাজ্জাদ তাকে ওই আধার কার্ড দিয়েছিল। তবে কার্ডটি আসল নাকি জাল, কিংবা কীভাবে সেটি তার কাছে এসেছে—এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেয়নি পুলিশ।
ডেভিড ইমন গ্রেপ্তার হলেও একই রাতে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে সাজ্জাদ বাহিনীর আরেক সদস্য রায়হান আলমকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে এসপি বলেন, ‘রায়হান আলম আমাদের নজরদারিতেই আছে। আশা করছি, খুব দ্রুত তাকেও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’
ডেভিড ইমনের গ্রেপ্তারের পর প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, এমন কোনো সুযোগ নেই। পুলিশের কাছে অপরাধী মানেই অপরাধী। যে-ই সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়াবে, তার পরিণতি ডেভিড ইমনের মতোই হবে।
এর আগে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে যশোরের কোতোয়ালি থানার ঝুমঝুমপুর এলাকায় ডেভিড ইমনকে গ্রেপ্তার করে যশোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযানে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সদস্যরাও অংশ নেন। এ সময় তার তিন সহযোগী—আলিস তমাল, শাফায়াত ও শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরদিন সকাল সাড়ে ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাদের চট্টগ্রামে আনা হয়। বর্তমানে তারা জেলা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। ডেভিড ইমনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামে হত্যা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তবে এসব মামলার অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

