নিজ উপজেলায় একাধিক নিকটবর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও সীতাকুণ্ড কামিল এম এ মাদ্রাসার ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে বাধ্য হয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শহরের কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়া, অতিরিক্ত খরচ ও মানসিক চাপসহ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থীদের প্রতিদিন দুটি বাসে করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক হয়ে চট্টগ্রাম শহরের নাসারিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে নেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবহন ভাড়া, খাবার ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে দৈনিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত ব্যয় দেড় লক্ষ টাকার কাছাকাছি পৌঁছবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের জন্য বড় আর্থিক চাপ তৈরি করেছে।
পরীক্ষার্থীরা জানান, ভোরে বাড়ি থেকে রওনা হয়ে দীর্ঘ যানজট ও সড়ক ঝুঁকি অতিক্রম করে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা যাত্রাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ায় তাদের মানসিক চাপ বাড়ছে, যা ফলাফলেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা।
সীতাকুণ্ড কামিল এম এ মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ওসমান গনি আমার দেশকে বলেন, নিকটবর্তী সীতাকুণ্ড ডিগ্রি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, বাড়বকুণ্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ কিংবা বিজয় বিজয় সরণি ডিগ্রি কলেজে কেন্দ্র নির্ধারণ করা হলে শিক্ষার্থীদের এত ভোগান্তি হতো না। পাশের মিরসরাই উপজেলায় কেন্দ্র হলে যাতায়াত আরও সহজ হতো।
তিনি আরও জানান, বিদ্যমান নীতিমালার কারণে কেন্দ্র পরিবর্তন সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়েই দূরবর্তী কেন্দ্রে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন দুইজন শিক্ষক তাদের সঙ্গে যাতায়াত করছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে তিনি উল্লেখ করেন, একই নীতিমালার আওতায় মিরসরাই উপজেলায় একটি মাদ্রাসা কেন্দ্র স্থানীয় ডিগ্রি কলেজে স্থানান্তর করা হয়েছে। একই ধরনের সিদ্ধান্ত সীতাকুণ্ডে নেওয়া হলে এই ভোগান্তি এড়ানো যেত বলে তিনি মনে করেন।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ড উপজেলার ১৩টি মাদ্রাসার ৫৩৫ জন দাখিল পরীক্ষার্থী সীতাকুণ্ড কামিল এম এ মাদ্রাসায় পরীক্ষা দিচ্ছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের দূরবর্তী কেন্দ্রে পাঠানো হওয়ায় স্থানীয়ভাবে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম আমার দেশকে বলেন, প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ আগে আমাকে অবহিত করলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব ছিল। পার্শ্ববর্তী মিরসরাই উপজেলায় কেন্দ্র নির্ধারণের সুযোগ ছিল। তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে ক্লাস বন্ধ রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় নিকটবর্তী এলাকায় পরীক্ষা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস এখন সময়ের দাবি।
শিক্ষাবিদরা মনে করেন, পরীক্ষা কেন্দ্র নির্ধারণে কেবল নীতিমালা নয়, বাস্তবতা, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। তা না হলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

