মায়ের মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর সড়কে ঝরল স্ত্রী-সন্তানের প্রাণ

উপজেলা প্রতিনিধি, আনোয়ারা (চট্টগ্রাম)

মায়ের মৃত্যুর ৩ ঘণ্টা পর সড়কে ঝরল স্ত্রী-সন্তানের প্রাণ

মাত্র ৯ দিন আগে মারা যান আইরিন সুলতানার বাবা। এর মধ্যেই নিথর হন শাশুড়ি। তার মৃত্যুর খবরে ভাইয়ের সঙ্গে ফিরছিলেন শ্বশুরবাড়ি। কোলে ছিল ছয় মাসের সন্তান। কিন্তু বিধিবাম! শাশুড়িকে শেষ দেখার আগেই লাশ হন মা-ছেলে। স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ব্যাংকার স্বামী।

হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের চকরিয়ার উপজেলার উত্তর হারবাং গয়ালমারা স্টেশন এলাকায়। সোমবার ভোরে বাস-ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত হন তারা।

বিজ্ঞাপন

নিহত আইরিন সুলতানা চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান এলাকার আলী আহমদ চেয়ারম্যান বাড়ির মো. নোমানুর রশিদের স্ত্রী। তাদের সন্তানের নাম আহসান। ২০২৩ সালে তাদের বিয়ে হয়।

স্বজনরা জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি আইরিনের বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুতে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় নিজ বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। ঠিক ৯ দিন পর তার শাশুড়ির মৃত্যু হয়। সোমবার ভোরে ছয় মাসের ছেলেকে নিয়ে বাসে শ্বশুরবাড়ি ফিরছিলেন। চকরিয়ার উত্তর হারবাং গয়ালমারা স্টেশন এলাকায় পৌঁছালে তাদের বাসটির সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আইরিন ও আহসান নিহত হন। এ সময় আহত হন কলেজপড়ুয়া ভাই আবির।

একসঙ্গে মা-ছেলে মারা যাওয়ায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মা-স্ত্রী আর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নোমান।

নোমানের ভাই আমিনুর রশীদ বলেন, আমার মা রোববার রাত ১২টার দিকে মারা যান। সেই খবর ভাইকে দিয়েছিলাম। ভাই নিজের কর্মস্থল লক্ষ্মীপুর থেকে এলেও স্ত্রী ও ছয় সন্তান পথেই লাশ হন।

চিরিংগা হাইওয়ে থানার ওসি মো. আরিফুল আমিন বলেন, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ দুটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...