রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা ও মালামাল লুটের মামলায় এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে তাকে অনাদায়ে আরো এক বছরের বিনাশ্রম সাজার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ীর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এবং পারিবারিক আপিল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ইউসুফ হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মিলন শেখ আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের মুচিদহ খামারডাঙ্গা গ্রামের রুনা খাতুনের সাথে স্থানীয় কাতার প্রবাসী আনিসুর রহমানের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। প্রবাসীর স্ত্রী রুনা নিজ বাড়িতেই বসবাস করতেন। আসামি মিলন শেখ ও তার পরিবারের নারী সদস্যরা টাকার বিনিময়ে রুনার বাড়িতে কাজ করতেন।
কাজের সূত্রে রুনার আর্থিক স্বচ্ছলতা ও স্বর্ণালঙ্কারের ওপর লোভ জাগে মিলনের। সেই লোভ থেকে সে রুনাকে হত্যা করে ঘর থেকে সম্পদ লুট করার পরিকল্পনা সাজায়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট গভীর রাতে রুনার ঘরে ঢুকে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে ঘর থেকে সোনা, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন লুট করে পালিয়ে যায় অপরাধীরা।
হত্যাকাণ্ডের সময় রুনার ছেলে-মেয়ে আসামি মিলনকে চিনতে পারে। একই সাথে তারা মিলনের সাথে আরো দুই কিশোরকে দেখতে পায়। পরবর্তীতে ওই দুজনকে (তাসেম সরদার ও রিয়াজ জোয়ারদার) মামলায় আসামি করা হলেও তাদের বয়স কম (১৭ বছর) হওয়ায় শিশু আদালতের মাধ্যমে বিচার কাজ পরিচালিত হবে বলে জানান পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আইয়ুব আলী খান।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট নিহত রুনার বড় ভাই মোহাম্মদ রায়হান বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা পরিচালনা ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে বিজ্ঞ আদালত অভিযুক্ত মিলন শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় প্রদান করেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

