গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক দুটি পোশাক কারখানায় ‘বমি ও খিঁচুনিতে’ শতাধিক কর্মী অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এ সময় অসুস্থ শ্রমিকদের টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল ও গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে কারখানা কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সকালে টঙ্গী মেঘনা রোড এলাকার এমট্রানেট গ্রুপের প্রতিষ্ঠান গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ ও আলম টাওয়ারের ব্রাভো এ্যাপারেলস লি.-এ এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন -নয়ন তারা (৩২), শাপলা (৩০), তাছলিমা (২৪), মারজান (২৪), ফুল বানু (২৪), লিমা (২০), শারমিন (৩৫), নাজমুল (২০), ডলি (২৬), আলিসা (২৫), লিজা (৩৭), কোহিনূর (২৭), শেফালি (২২), আসমা (৩৫), মনিরা (৩৪), হৃদয় (২৭), মেহেদী (২৫), নাছিমা (৩২), রিয়া (২৫), কিরণ দাস (২২), সুমা (২৪), শাহ আলম (২৪), নাদিরা (২২), শিউলী (৩৬), জান্নাত (১৯)। এদের মধ্যে ১২ জনকে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ব্রাভো এ্যাপারেলস লি.-এর কর্মীরা জানান, প্রতিদিনের মতো সকাল থেকে কাজ শুরু করেন তারা। এ সময় হঠাৎ কারখানার পঞ্চম তলায় একটা দুর্গন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে শ্রমিকেরা ক্রমাগত বমি করতে করতে অসুস্থ হয়ে পড়েন। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্কিত হয়ে কারখানাটির বিভিন্ন ফ্লোরে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদিকে গার্মেন্টস এক্সপোর্ট ভিলেজ লি.-এর কর্মীরা জানান, দুই দিন আগে দুপুরের পর কারখানার বেশ কিছু কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়লে কারখানা ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
গতকালও কারখানাটির কয়েকটি ফ্লোর বন্ধ থাকে। আজ সকালে কাজ শুরু করার পর হঠাৎ করে আবারও বেশ কিছু কর্মী ‘বমি ও খিঁচুনিতে’ অসুস্থ হয়ে পড়েন।
পরে উভয় কারখানা থেকে অসুস্থ কর্মীদের উদ্ধার করে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেক অসুস্থ কর্মীকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।
ব্রাভো এ্যাপারেলস লি.-এর কর্মী সুমা বলেন, কাজ শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে কারখানায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ শুরু হলে বমি ও মাথাব্যথা শুরু হয়। ফলে আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি।
এ বিষয়ে উভয় কারখানার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদা সুলতানা বলেন, হাসপাতালে আসা বেশির ভাগ পোশাককর্মী ‘প্যানিক অ্যাটাক’-এ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে কিছু কর্মী শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন। অসুস্থ পোশাককর্মীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। অনেকে বমি ও খিঁচুনি হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের পরিদর্শক আজাদ রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। দুই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। কেন এমন ঘটনা ঘটছে, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

