রাজধানীর অদূরে সাভারে গড়ে উঠেছে দেশের অন্যতম বৃহৎ মাশরুমের পাইকারি বাজার। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের মূল ফটকসংলগ্ন খোলা জায়গায় সপ্তাহের সাত দিনই বসে এই বাজার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে বেচাকেনা, আর তাতে ব্যস্ত সময় পার করেন দোকানিরা।
দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে চাষিরা সরাসরি মাশরুম নিয়ে আসেন এই বাজারে। অনেকে আবার নিয়মিত পরিবহনের মাধ্যমে পণ্য পাঠান। বড় বড় রেস্টুরেন্ট ও পাঁচতারকা হোটেলের মালিকেরা এখান থেকেই মাশরুম সংগ্রহ করেন। অর্ডার পাওয়ার পর দ্রুত সরবরাহও নিশ্চিত করেন ব্যবসায়ীরা। অনেক ক্ষেত্রে তিন থেকে ছয় মাসের চুক্তিতেও সরবরাহ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ জমজমাট থাকে মাশরুমের এই বাজার।
একসময় মাশরুমকে ‘ব্যাঙের ছাতা’ বলে অবহেলা করা হতো। খাবার হিসেবে এর ব্যবহার ছিল সীমিত। তবে সময়ের সঙ্গে পাল্টেছে চিত্র। বর্তমানে দেশে মাশরুম চাষ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণের সঙ্গে প্রায় দেড় লাখ মানুষ জড়িত।
সাভারের পাইকারি বাজারে বাটন, ঋষি, গোল্ডেন ওয়েস্টার, কান, মানকিহেড, শীতাকি, মিল্কি প্রজাতিসহ নানা ধরনের মাশরুম পাওয়া যায়। পাশাপাশি মাশরুমের পাউডার, স্যুপ, শক্তিবর্ধক ওষুধ, হার্টের উপকারি উপাদান, সাবানসহ বিভিন্ন বাই-প্রোডাক্টও বিক্রি হচ্ছে। অনেকে মাশরুম দিয়ে কেক, সাসলিক, কাটলেট, ফ্রাই, ভর্তা, স্যুপ, রোল, নুডুলস, সালাদ এমনকি পিঠা-পুলি, হালুয়া, চা ও কফি তৈরি করে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সরকারি উদ্যোগে দেশের একমাত্র বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মাশরুম উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সাভারেই অবস্থিত। এর অধীনে রয়েছে ৩৪টি সাব-সেন্টার। ইনস্টিটিউট চত্বরে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে জমজমাট এ বাজারের চিত্র।
মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র্য হ্রাসকরণ প্রকল্পের পরিচালক কৃষিবিদ ড. আখতার জাহান কাকন জানান, দেশে বর্তমানে ছয় শতাধিক উদ্যোক্তা ও এক হাজার ৮ শতাধিক চাষি সক্রিয় রয়েছেন। বর্তমানে মাশরুম চাষ, প্রসেসিং ও বিপণনে প্রায় দেড় লাখ লোক জড়িত। প্রতিবছর প্রায় ৪০ হাজার মেট্রিক টন মাশরুম উৎপাদিত হচ্ছে, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৮০০ থেকে ৮৫০ কোটি টাকা।
তিনি আরো বলেন, মাশরুম অত্যন্ত প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্য; এতে ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ প্রোটিন রয়েছে। এছাড়া ভিটামিন ডি, মিনারেল, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি পুষ্টিকর সবজি হিসেবে ব্যাপক সম্ভাবনাময়। দেশের চাহিদা পূরণ করে অচিরেই বড় পরিসরে বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


কারখানা বন্ধের ইঁদুর-বিড়াল খেলা, মাসে ক্ষতি ২৩৭ কোটি টাকা