মাদারীপুরে শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সূর্যের দেখাই মিলছে না প্রায় ১০ দিন। শিরশিরে হিমেল হাওয়া, ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জবুথবু জনজীবন।
মঙ্গলবার সকাল ৮টায় এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ ৯৮ শতাংশ।
জেলার অধিকাংশ এলাকায় প্রচণ্ড ঠান্ডায় জনজীবন বিপর্যস্ত । শীতের দাপটে গ্রামাঞ্চলের অনেকেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছে। দিনের বেলায় সূর্যের তাপ না থাকায় হিমেল বাতাসে কমতে থাকে তাপমাত্রা। সূর্যের আলোর দেখা না পাওয়ায় দুর্ভোগে পড়েছে খেটে খাওয়া মানুষ।
ভোর থেকে ঘন কুয়াশা আর হিমেল হাওয়ায় মানুষ কাজে বের হতে পারছে না। দিনমজুর, নৌকার মাঝি, কৃষিশ্রমিক ও বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের আয় প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। ঠান্ডায় কাজ করতে না পারায় অনেক পরিবারের অনাহারে দিন কাটছে।
প্রচণ্ড ঠান্ডায় শিশু ও বয়স্কদের নিউমোনিয়া, সর্দি-কাশির ঝুঁকি বেড়েছে। প্রতিদিনই ১০-১৫ জন শিশু ও বয়স্ক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হচ্ছেন। এসব রোগীর চিকিৎসা দিতেও হিমশিম খাচ্ছেন স্থানীয় চিকিৎসকেরা। শীত বাড়লেও শিবচরের চরাঞ্চলে এখনো পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র পৌঁছেনি। অনেক এলাকায় সরকার-বেসরকারি সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম—এমন অভিযোগ স্থানীয় অনেকের।
সদর উপজেলার কুনিয়া ইউনিয়নের অটোভ্যানচালক জব্বর বয়াতী বলেন, ‘ঠান্ডায় কাজ করতে পারি না। সংসারের বাড়তি আয় না থাকায় পরিবারের অনাহারে কষ্টে দিন কাটছে। কোনো শীতবস্ত্রও পাচ্ছি না।’
একই উপজেলার গাড়িচালক আনোয়ার ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে খুব ঠান্ডা। ঠান্ডায় হাত-পা বরফ হয়ে যাচ্ছে। গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে, গাড়ি না চালালে আমার পরিবারসহ সবাইকে না খেয়ে থাকতে হয়।’
সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘এ পর্যন্ত আমরা ১ হাজার ৫০০ কম্বল পেয়েছি, যা প্রতিটি ইউনিয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’
এসআই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

