আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের মজুত ও ব্যবহার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সন্ত্রাসী, কিশোর গ্যাং এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ক্যাডারদের হাতে এসব অস্ত্র পৌঁছে যাওয়ায় নির্বাচনী মাঠে সহিংসতা নিয়ে প্রার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি চৌমুহনীতে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলিসহ দুই যুবক গ্রেপ্তারের ঘটনায় প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার এবং প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীদের লোকজনের প্রকাশ্য মহড়া ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ২ জানুয়ারি দুপুরে চৌমুহনী বাজার এলাকার আবাসিক হোটেল রিয়াদ থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ দুই সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন— মো. জাহিদ হাসান রাসেল, চৌমুহনী পৌরসভার হাজীপুর গ্রামের শহীদ হক ওরফে বাবুল মোল্লার ছেলে এবং মোহাম্মদ বাসু (৪২), দুর্গাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নাসির আহাম্মেদের ছেলে। গ্রেপ্তারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলে জানায় পুলিশ।
এদিকে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সোনাইমুড়ী ও চাটখিল থানায় হামলার ঘটনায় চাটখিল থানা থেকে ৫৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫ হাজার ৪০০ রাউন্ড গোলাবারুদ, চারটি গ্যাসগান, চারটি পিস্তল ও আটটি শটগানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম লুট হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ৫১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩ হাজার ৩ রাউন্ড গোলাবারুদ ও দুটি গ্যাসগান উদ্ধার করা হলেও বাকি অস্ত্র এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, যা নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, “অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। নইলে সুষ্ঠু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হবে।”
নোয়াখালী জেলা জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও নোয়াখালী-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা বোরহান উদ্দিন জানান, “ভোটের আগেই অবৈধ অস্ত্রধারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।”
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নোয়াখালী জেলা সাধারণ সম্পাদক আবু নাছের মঞ্জু বলেন, “সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে অবিলম্বে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করা জরুরি।”
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, নির্বাচনকে ঘিরে জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

