বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর হুমকি ও চাঁদা দাবির মামলা

জেলা প্রতিনিধি, রাজবাড়ী

বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে প্রবাসীর স্ত্রীর হুমকি ও চাঁদা দাবির মামলা

রাজবাড়ীতে প্রাণনাশ ও ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করায় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন

ইটালি প্রবাসীর স্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৮ আগস্ট) বালিয়াকান্দি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আমলি আদালতে মামলাটি করেন তিনি।

মামলার বাদী ইটালি প্রবাসী মাসুম শেখের পলি আক্তার। তার বাড়ি বালিয়াকান্দি উপজেলার বালিয়াকান্দি বাজারে।

মামলায় আসামি করা হয় আটজনকে। ১ নম্বর আসামির নাম খন্দকার মশিউল আজম চুন্নু। তিনি বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সদস্য সচিব (বহিষ্কৃত)। অন্য আসামিরা হলেন খন্দকার শফিউল আলম শিপলু ও খন্দকার শোভন আরেফিন, এছাড়া অরো রয়েছেন নাজমুল হাসান বিপুল, সোহেল শেখ, মো. নান্নু বিশ্বাস, মো. মহসিন খান ও উজ্জ্বল দাস।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, পলি আক্তারের স্বামী মাসুম শেখ দেশে ফিরে ১৫ আগস্ট জুম্মার পর বালিয়াকান্দি বাজারের পাশে তার বাবার কবর জিয়ারত করতে যান। এ সময় চুন্নুসহ উল্লিখিত আসামিগণ দেশি অস্ত্রসহ তার পথরোধ করে দাঁড়ায় এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এক পর্যায়ে এসব আসামি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে হাতুড়ি, রড, কাঠের মাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে।

আহত অবস্থায় বিএনপি নেতা চুন্নু থানায় খবর দিয়ে আওয়ামী ট্যাগ লাগিয়ে গ্রেপ্তার করতে বলে। মাসুম শেখ ওসিকে বিস্তারিত জানানোর পর ওসি মামলা না নিয়ে আদালতে যেতে পরামর্শ দেন। আহত মাসুম শেখ প্রথমে বালিয়াকান্দি ও পরে ফরিদপুর হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেন। পরে আমলি আদালতের বিচারক মহসিন হাসান মামলা আমলে নিয়ে বলিয়াকান্দি থানায় এফ আই আর হিসাবে গ্রহণ করার আদেশ দেন।

অন্যদিকে সোমবার মামলা করার পাশাপাশি রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে মাসুম শেখকে হত্যা চেষ্টা ও চাঁদা দাবির প্রতিবাদে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এ সময় আহত প্রবাসী মাসুম শেখ,তার স্ত্রী (মামলার বাদি) পলি আক্তার বক্তৃতা করেন।

মাসুম শেখ তার শরীরের বিভিন্ন অংশ আঘাতের চিহ্ন দেখান এবং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের উপযুক্ত বিচার দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমি দীর্ঘ ১৪ বছর ইটালিতে বসবাস করি, আমার বড় ভাইও ২৫ বছর ধরে ইটালি থাকেন।

আমরা এ দেশের রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমাদের কষ্টার্জিত অর্থ চাঁদাবাজদের হাতে বিলিয়ে দিতে পারি না। এর প্রতিকার চাই।

এ বিষয়ে বিএনপি নেতা অভিযুক্ত মশিউল আজম চুন্নু মোবাইল ফোনে জানান, তিনি আওয়ামী লীগ আমলে মিথ্যা মামলায় আমাদের ফাঁসিয়েছেন, হয়রানি করেছেন। এ কারণে এলাকার কিছু লোক তাকে মারধর করে থানায় সোপর্দ করে। চাঁবাজির কোনো ঘটনা ঘটেনি। আওয়ামী লীগ আমলে আমার ছেলের নামে মিথ্যা মামলা করে থানার মাধ্যমে আমার কাছ থেকে আট লাখ টাকা আদায় করেছে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন