শরীয়তপুর পৌরসভার আদর্শনগর এলাকায় একটি চারতলা ভবনের ছাদে নির্মাণাধীন ঝুঁকিপূর্ণ দেয়াল ধসে পাশের টিনের ঘরের ওপর পড়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
বুধবার সকালে প্রবল বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম দীর্ঘদিন ধরে তার চারতলা ভবনের ছাদে একটি অতিরিক্ত দেয়াল নির্মাণ করে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখেন। দেয়ালটি কোনো পিলারের সঙ্গে সঠিকভাবে সংযুক্ত না থাকায় শুরু থেকেই সেটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। বিষয়টি নিয়ে আশপাশের বাসিন্দারা একাধিকবার সতর্ক করলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেননি।
দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকায় দেয়ালটি বৃষ্টিতে ভিজে দুর্বল হয়ে পড়ে। বুধবার সকালে তীব্র বৃষ্টি ও ঝড়ের সময় হঠাৎ দেয়ালটি ভেঙে পাশের একটি আধাপাকা টিনের ঘরের ওপর ধসে পড়ে। এতে মুহূর্তেই ঘরের চাল ভেঙে ভেতরে ধসে পড়ে এবং ঘরের ভেতরে থাকা লোকজন ইট-পাথরের আঘাতে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ভুক্তভোগী নাসির উদ্দীন বলেন, আমরা ঘরের ভেতরে বসে কথা বলছিলাম। হঠাৎ বিকট শব্দে দেয়াল ধসে পড়ে আমাদের ঘরের চাল ভেঙে সবকিছু লন্ডভন্ড হয়ে যায়। কয়েকটি ইট আমাদের গায়েও পড়ে, এতে আমরা আহত হই। আগে থেকেই দেয়ালটি নিয়ে মালিককে বহুবার বলেছি, কিন্তু তিনি কোনো পদক্ষেপ নেননি।
তিনি আরও বলেন, আজ আমরা অল্পের জন্য বেঁচে গেছি। আর একটু কাছে থাকলে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো। এখন আমাদের থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। আমরা এ ঘটনার সঠিক বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা রশিদ বলেন, দেয়ালটি কোনো পিলারের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। বিষয়টি মালিক জানতেন, তবুও তিনি অবহেলা করেছেন। তার গাফিলতির কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এখনও ভবনটিতে ঝুঁকি রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আবারও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
পালং মডেল থানার ওসি শাহ আলম বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রায় পাঁচ বছর আগে নির্মিত দেয়ালটি দীর্ঘদিন অসম্পূর্ণ অবস্থায় ছিল। ঝড় ও বৃষ্টির কারণে দেয়ালটি ধসে পড়ে। এতে চারজন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এএস
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

