প্রেমিকার জন্য স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা

প্রেমিকার জন্য স্কুলে ঢুকে ছাত্রকে মারধর, বহিষ্কার ছাত্রদল নেতা
বহিষ্কৃত মো. সাজ্জাদ খন্দকার

কথিত প্রেমিকার জন্য স্কুলে ঢুকে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রকে মারধরের অভিযোগে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাধাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি মো. সাজ্জাদ খন্দকারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে কোটালীপাড়ার নারকেলবাড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

মারধরের শিকার ছাত্র সুমন মোল্লা (১৩) ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে জানায়, ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ আমাকে শ্রেণিকক্ষ থেকে ডেকে এনে বলেন, তুই আমার প্রেমিকাকে (একই বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রী) বিরক্ত করিস কেন? এই বলেই আমাকে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন। আমি বলি, তাকে কোনো বিরক্ত করিনি। এরপরও তিনি একের পর এক ঘুষি দিতে থাকেন। এতে আমার ঠোঁট কেটে রক্ত বের হয়।

একপর্যায়ে ওই ছাত্রীকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করা হলে সে আমাকে বিরক্ত করার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করে। পরবর্তীতে মারধরের ঘটনাটি কাউকে জানালে পরিণাম খারাপ হবে বলে হুমকি দিয়ে সাজ্জাদ স্কুল প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরদিন গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ ও সদস্যসচিব নিলয় হাওলাদার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে সাজ্জাদ খন্দকারকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারের কথা জানানো হয়। দলীয় বিজ্ঞপ্তিতে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক লালন শেখ বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সাজ্জাদ খন্দকারকে সংগঠন থেকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে।

সুমনের খালু সায়েম কাজী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া কথিত প্রেমিকার কথা শুনে মিথ্যা অভিযোগে সুমনকে নির্মমভাবে মারধর করেছেন ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ। স্কুলের ভেতরে একজন কিশোর শিক্ষার্থীকে এভাবে পিটিয়ে আহত করার ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার। স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ জায়গা।

তিনি আরো জানান, সুমনের বাবা-মা ঢাকার আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ফলে সুমন ও তার ছোট ভাই হাসুয়া গ্রামে খালার বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করছে।

বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদ খন্দকার উপজেলার নারকেলবাড়ি গ্রামের আলমগীর খন্দকারের ছেলে। ঘটনার পর থেকে অভিযোগের বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন