নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় এক রাতে বসতবাড়ি ও টেক্সটাইল মিলের অফিসে সংঘবদ্ধ ডাকাতি হয়েছে। এ সময় অজ্ঞাতনামা ডাকাতরা নগদ প্রায় সাড়ে ৯ লাখ টাকা, ৮ ভরি স্বর্ণালংকার, একাধিক মোবাইল ফোন ও মূল্যবান সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।
এক রাতে তিনটি ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার সদর পৌরসভার ঝাউগড়া এলাকায় নজরুল ইসলামের বাড়িতে একদল ডাকাত হানা দেয়। ৬-৭ জন ডাকাত বাড়ির কেচিগেটের তালা কেটে এবং শাবল দিয়ে রুমের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নজরুল ইসলামকে বেঁধে বিছানায় বসিয়ে রাখে। এরপর তারা স্টিলের আলমারি ও কাঠের ওয়ারড্রবের তালা ভেঙে নগদ প্রায় ২ লাখ টাকা, ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, দুটি বাটন মোবাইল এবং একটি স্মার্টফোন লুট করে নেয়।
এরপর পাশের ভাড়াটিয়া শামীমের (৩৫) বাসা থেকে ১০ আনা স্বর্ণালংকার ও একটি স্মার্টফোন লুট করা হয়। ডাকাতদের বয়স আনুমানিক ২৫-৩৫ বছরের মধ্যে এবং তারা শর্টপ্যান্ট ও হাফ হাতা গেঞ্জি পরা ছিল।
একই রাতে ৩টার দিকে আড়াইহাজার থানাধীন ছোট বাড়ৈপাড়া এলাকায় আড়াইহাজার পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আমিনুল ইসলাম সুমনের সাইজিং অ্যান্ড টেক্সটাইল মিলে ১০-১২ জন মুখোশধারী ডাকাত প্রবেশ করে। তারা অফিস কক্ষের কাঠের দরজা শাবল দিয়ে ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। ডাকাতরা স্টিলের আলমারি ভেঙে আনুমানিক
সাড়ে ৪ লাখ টাকা, একটি মনিটর এবং রেকর্ডিং মেশিন লুট করে নেয়।
সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী, ডাকাতদের বয়স আনুমানিক ২৩-২৭ বছরের মধ্যে। তারা কালো মুখোশ পরে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসেছিল।
এক রাতে তিন ডাকাতির ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং তদন্ত শুরু করেছে।
আড়াইহাজার থানার ওসি এনায়েত হোসেন জানান “আমরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করছি। ডাকাতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। খুব শিগগিরই তাদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।”
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

