রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন

রাজবাড়ীতে ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত মো. ফারুক হোসেনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ মো. তহিদুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রোববার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। অভিযুক্ত ফারুক হোসেন পলাতক রয়েছেন।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, পাংশা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মোসা. রেখা খাতুন স্থানীয় যুবক ফারুকের বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। স্থানীয় সালিশি সিদ্ধান্তে ফারুক বিয়ে করতে রাজি না হলে ২০১৮ সালের ৩০ মে ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন এবং ধর্ষক ফারুককে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এ সময় রেখা খাতুন ১০ সপ্তাহের গর্ভবতী ছিলেন। তাঁকে বিয়ে করবে মর্মে বাদীর সঙ্গে সমঝোতা করে সে জামিনে বেরিয়ে যায়। এর পর থেকে সে পলাতক রয়েছে। এদিকে রেখা খাতুনের ঘরে রাফিউল নামের একটি পুত্রসন্তানের জন্ম হয়, যার বয়স এখন ৭ বছর।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জাহিদ উদ্দিন মোল্লা জানান, প্রথমে বাদী রেখা খাতুনের মামলাটি পাংশা থানা নেয়নি। পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে নালিশি দরখাস্ত করা হয়। পরে আদালত পাংশা থানাকে এই মামলা এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ সময় ধরে শুনানি এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে দণ্ড দেওয়ায় আদালতের প্রতি সন্তোষ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌশলী।

আদালত জানান, আসামি ফারুক হোসেন ও ভিকটিম রেখা খাতুনের গর্ভজাত পুত্রসন্তানের জৈবিক পিতা যে ফারুক—তা প্রমাণিত হয়েছে। আদালত রাফিউলের জন্মদাতা পিতা হিসেবে ফারুক হোসেনকে সন্তানের দায়িত্ব নিতে আদেশ দেন। এ ছাড়া রেখা খাতুনের গর্ভজাত সন্তান আসামি ফারুক হোসেনের নিকট থেকে পুত্র হিসেবে প্রাপ্য সব অধিকার পাবেন।

এমই

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন