একসময় ইউটিউবে আঙুর চাষের ভিডিও দেখে স্বপ্ন বুনেছিলেন। সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিদেশি ফল হিসেবে পরিচিত আঙুর এখন ফরিদপুরের বোয়ালমারীর মাটিতে ফলিয়ে সাফল্যের নজির গড়েছেন যুবক বাবর শেখ (৩১)। বোয়ালমারী উপজেলার গুণবহা ইউনিয়নের গুণবহা দক্ষিণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আইয়ুব শেখের ছেলে বাবর শেখ। তিনি ইউটিউব দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০২২ সালের শেষ দিকে যশোরের লেবুতলা এলাকার একটি বাগান থেকে ৪৬টি আঙুরের চারা সংগ্রহ করে ২০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন।
প্রথমদিকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। ছয় মাস পর মাত্র ২০টি গাছে ফল এলেও বাকি গাছগুলোতে ফল ধরেনি। এতে কিছুটা হতাশ হলেও হাল ছাড়েননি বাবর। পরে রাজশাহী থেকে উন্নত জাতের লাল আঙুরের চারা সংগ্রহ করে নতুনভাবে পরিচর্যা শুরু করেন। মাত্র চার মাসেই গাছে ফল ধরতে শুরু করে। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
বর্তমানে বাবর শেখের বাগানে দুইশ আঙুরগাছ রয়েছে। সবুজ ও লাল রঙের থোকায় থোকায় ঝুলন্ত আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসেন। অনেকেই সরাসরি বাগান থেকেই আঙুর কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।
উদ্যোক্তা বাবর শেখ বলেন, ‘ইউটিউব দেখে এবং বিভিন্ন আঙুর বাগান ঘুরে বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে আমি চারা সংগ্রহ করি। গোবর, জৈব সার, বালু ও ইটের কুচি মিশিয়ে গাছের গোড়ায় ব্যবহার করেছি। নিয়মিত পরিচর্যার ফলে দ্রুত ফলন পেয়েছি। বর্তমানে আঙুরের কলম তৈরি করে চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছি।’
বাবর শেখ জানান, বাণিজ্যিকভাবে আঙুরচাষ সম্প্রসারণের জন্য তিনি বাইকুনুর, অ্যাকলো, অস্ট্রেলিয়ান কিং, ব্ল্যাক রুবি, ভ্যালেজ, লুরাজ, ডিক্সন ও ব্ল্যাক ম্যাজিকসহ বিভিন্ন উন্নতজাতের আঙুর চাষের পরিকল্পনা করছেন।
বাবরের বাবা আইয়ুব শেখ বলেন, প্রথমে ছেলেকে জমি দিতে চাইনি। কারণ আমাদের এলাকায় আগে কেউ আঙুর চাষ করেনি। পরে তার আগ্রহ দেখে জমি দিই। আজ সে আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছে।
প্রায় চার বছর ধরে গড়ে ওঠা এ আঙুর বাগান এখন স্থানীয় কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করছে। তিনি মনে করেন, সরকারি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ পেলে দেশের বাজারে বিদেশি আঙুরের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আঙুরের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার আলভীর রহমান বলেন, খবর পেয়ে আমি ওই কৃষকের আঙ্গুর বাগান পরিদর্শনে গিয়েছি। আমাদের পক্ষ থেকে কৃষককে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও সঠিক গাইডলাইন অনুসরণ করে উচ্চ ফলনশীল জাতের আঙুর বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে এ খাত থেকে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেরও সম্ভাবনা রয়েছে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

