ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধে দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধে দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাট

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দোকানপাটসহ বসতবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের পাশে পৌর শহরের কমলপুর লোকাল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিজ্ঞাপন

হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য নিশ্চিত করে ভৈরব থানার ওসি মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘যতটুকু জানতে পেরেছি, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যেেআগে থেকেই দ্বন্দ্ব ছিল। তবে যেকোনো ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ কোনোভাবেই কাম্য নয়। অপরাধীদের শনাক্ত করে এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিরোধপূর্ণ জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে এবং বিষয়টি নিয়ে তারা আইনি লড়াই চালিয়ে আসছে। শনিবার দুপুরে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে ওই স্থানের দোকানপাট ভাঙচুর করে। জমির মূল মালিকের নিজস্ব দোকান না থাকলেও সেখানে অবস্থানরত ভাড়াটিয়াদের দোকানপাট ও বসতবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় ব্যাবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

ভুক্তভোগী ও হাবীব এন্টারপ্রাইজের মালিক হাবিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, জমির প্রকৃত মালিক রুবেল মিয়ার কাছ থেকে আমি দোকানঘরটি ভাড়া নিই। শনিবার দুপুরে হঠাৎ একদল দুর্বৃত্ত আমার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা ক্যাশে থাকা নগদ ১৮ লাখ টাকা এবং ব্যবসার বেশ কিছু প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে গেছে।

তিনি আরও দাবি করেন, মুর্শিদ মিয়া নামের এক ব্যক্তি জমিটি নিজের বলে দাবি করে আসছেন। তিনি, কনক মিয়া এবং আরও বেশ কিছু লোক সংঘবদ্ধ হয়ে এই হামলা ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

এ বিষয়ে জমির দাবিদার রুবেল মিয়া অভিযোগ করেন, জমি নিয়ে মুর্শিদ মিয়ার সঙ্গে আমার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। আমি মূলত নানাবাড়ির সুবাদে এই সম্পত্তির মালিক হয়েছি এবং সমস্ত বৈধ কাগজপত্র আমাদের নামেই রয়েছে। শনিবার দুপুরে মুর্শিদ মিয়া ও কনক মিয়া দলবল নিয়ে এসে জোরপূর্বক জমি দখলের অপচেষ্টা চালায়। একপর্যায়ে তারা তাণ্ডব চালিয়ে দোকানপাট ও বাড়িঘর ভাঙচুর করে কেটে পড়ে।

অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মুর্শিদ মিয়া পাল্টা দাবি করে বলেন, ‘আমি জমিটির ক্রয়সূত্রে প্রকৃত মালিক। দুই বছর আগেও আমি ওই দোকানগুলোর ভাড়া উত্তোলন করেছি। আদালতের ভুয়া রায় দেখিয়ে রুবেল মিয়া একদল বহিরাগতকে প্রতিষ্ঠান ভাড়া দিয়েছেন। পরবর্তীতে আমি জমিটি কনক মিয়ার কাছে বিক্রি করে দিয়েছি।’

আরেক অভিযুক্ত কনক মিয়া বলেন, ‘আমি মুর্শিদ মিয়ার কাছ থেকে জমিটি কিনেছি এবং আমার কাছে সব কাগজপত্র সঠিক রয়েছে। জমি দখল নিতে গেলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। ওই সময় মালিকপক্ষের সঙ্গে আমাদের ঝামেলা তৈরি হয়।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন