শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তাবিত ক্যাম্পাসের স্থান পরিবর্তনের ঘোষণার প্রতিবাদে এবং পূর্বনির্ধারিত স্থান বহাল রাখার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলা বিএনপি।
বুধবার দুপুরে সদর উপজেলা চত্বর থেকে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়। পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবরের নেতৃত্বে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশেই পূর্বনির্ধারিত স্থানে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোরালো দাবি জানান।
বিক্ষোভকারীদের মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের স্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে জেলার মানুষের সামগ্রিক স্বার্থ, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা, নিরাপত্তা এবং শিক্ষাসহায়ক অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদের হুইপ ও শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপুর পূর্ব ডামুড্যা এলাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস স্থাপনের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। এরপর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন পূর্বনির্ধারিত স্থান বহাল রাখার দাবিতে ধারাবাহিকভাবে কর্মসূচি পালন করে আসছে।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক টিপু মাদবর বলেন, ‘জেলা শহরের কাছে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশের পূর্বনির্ধারিত স্থানটি যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধার দিক থেকে তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি উপযোগী। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শরীয়তপুরের বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের যাতায়াত অত্যন্ত সহজ হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলার সীমান্তবর্তী চরাঞ্চলে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হলে শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যাতায়াত, আবাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তাসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে।’
কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট এলাকার স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে টিপু মাদবর পূর্বনির্ধারিত স্থান বহাল রাখার জোর দাবি জানান।
কর্মসূচি থেকে অন্য বিক্ষোভকারীরাও ক্যাম্পাসের স্থান নির্ধারণে সহজ যোগাযোগব্যবস্থা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

-80a8a0-720x405.webp)