ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বিদ্যুৎ সাব-স্টেশন থেকে ট্রান্সফরমার ও জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং তামার ক্যাবল চুরির ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে হাসপাতালের নতুন ভবনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। তীব্র গরমে অন্ধকারে আইসিইউ, মেডিসিন, আইসোলেশন ও সার্জারি ওয়ার্ডের রোগী এবং তাঁদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
মঙ্গলবার সকালে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে দীর্ঘ চেষ্টার পর দুটি বিদ্যুৎ লাইনের একটি বেলা ১১টার দিকে এবং অন্যটি বিকেল ৫টার দিকে সচল করা হয়।
এর আগে সোমবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা সাব-স্টেশনের ভেন্টিলেশনের ফ্যান খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এসব মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি হওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা।
সাব-স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান জানান, দুর্বৃত্তরা সাব-স্টেশনে ঢুকে ট্রান্সফরমার ও বড় জেনারেটরের মূল্যবান যন্ত্রাংশ এবং সব তামার ক্যাবল খুলে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে খবর পেয়ে তাঁরা মেরামতের কাজ শুরু করেন।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, ‘চোরেরা সব ক্যাবল নিয়ে গেছে। এর আগেও হাসপাতাল ভবনের থাইগ্লাস, বাথরুমের কলসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা ঘটেছে। আমরা এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিচ্ছি।’
এদিকে গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের চুরির ঘটনায় সেখানকার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ফেনী গণপূর্ত বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আনিসুল হক বলেন, ‘সাব-স্টেশনটি গণপূর্ত বিভাগের অধীন হলেও এটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ব্যবহার করে। এর নিরাপত্তার দায়িত্বও তাদের। মূলত পর্যাপ্ত পাহারা না থাকায় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।’
ফেনী জেনারেল হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই নয়ন চন্দ্র দাস জানান, এ ঘটনায় হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার নূর নবী বাদী হয়ে ফেনী মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এমএইচ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

