সুপেয় পানির সংকটে খুলনার উপকূল, সহায়তা প্রয়োজন ৭ হাজার পরিবারে

খুলনা ব্যুরো

সুপেয় পানির সংকটে খুলনার উপকূল, সহায়তা প্রয়োজন ৭ হাজার পরিবারে

খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রা ও দাকোপে নিরাপদ পানির সংকট নিরসনে আরো ৭ হাজার ৩৬০টি পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণব্যবস্থা স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ১ হাজার ২০২টি নলকূপ স্থাপন, ৫০টি পুকুর পুনঃখনন, ৩২টি খাল খননসহ পানি সরবরাহের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এসব চাহিদা পূরণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

বুধবার খুলনার নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে অনুষ্ঠিত এক অ্যাডভোকেসি সভায় এসব চাহিদার কথা তুলে ধরা হয়। সভাটি আয়োজনে করে বেসরকারি সংস্থা জাগ্রত যুব সংঘ (জেজেএস)। প্রকল্পের সহযোগী হিসেবে রয়েছে কনসার্ন ওয়ার্ল্ডওয়াইড ও কোইকা।

বিজ্ঞাপন

সভায় বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কয়রায় আরো ৩ হাজার ৫৬০টি এবং দাকোপে ৩ হাজার ৮০০টি পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপন প্রয়োজন। এছাড়া ১ হাজার ২০২টি নলকূপ স্থাপন, ৫০টি পুকুর পুনঃখনন, ১৫টি রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্ল্যান্ট স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সরবরাহের ৩টি পয়েন্ট নির্মাণ, ৩২টি খাল খনন, ৯টি স্লুইসগেট এবং ৮টি পুকুরের বালুভিত্তিক পানি পরিশোধনব্যবস্থা (পিএসএফ) মেরামতের প্রয়োজনীয়তা চিহ্নিত করা হয়েছে। পুনঃখনন প্রয়োজন—এমন ৫০টি পুকুরের মধ্যে কয়রায় ২৪টি ও দাকোপে ২৬টি রয়েছে।

সভায় উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কয়রায় ২ হাজার ২১২টি পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে ৯৭০টি, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৪৪ শতাংশ। একই সময়ে ২২টি পুকুর পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কাজ হয়েছে মাত্র ৩টিতে। এছাড়া কয়রায় একটি রিভার্স অসমোসিস (আরও) ব্যবস্থা, পাইপলাইনে পানি সরবরাহের একটি পয়েন্ট, একটি খাল খনন এবং একটি স্লুইসগেট মেরামত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দাকোপে ৪ হাজার ২টি পরিবারের জন্য বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে স্থাপন করা হয়েছে ১ হাজার ২৮৪টি, যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৩২ শতাংশ। এ উপজেলায় ২৭টি পুকুর পুনঃখননের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৫টি পুনঃখনন করা হয়েছে। পাশাপাশি দুটি আরও প্ল্যান্ট স্থাপন, ৬টি খাল খনন এবং একটি স্লুইসগেট মেরামত করা হয়েছে।

জেজেএসের অ্যাডভোকেসি সভায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়, জেলা মৎস্য কার্যালয়, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং এনজিও প্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন