চট্টগ্রামে ১৫ হাজার জনবল নিয়ে একদিনে ১ লাখ গাছ রোপণ

চট্টগ্রামে ১৫ হাজার জনবল নিয়ে একদিনে ১ লাখ গাছ রোপণ
ছবি: আমার দেশ

প্রায় ১৫ হাজার মানুষের অংশগ্রহণে চট্টগ্রামে এক দিনে এক লাখ গাছ রোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার জেলার ১৬টি উপজেলা ও মহানগরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

সকালে নগরের জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণে একটি নারকেলের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দিন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

উদ্বোধনের পর দিনভর জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়। সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটসংলগ্ন ডিসি পার্কে র‍্যালি শেষে উপদেষ্টার হাতে এক লাখতম চারা হিসেবে আরেকটি নারকেলের চারা রোপণের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি শেষ হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ বলেন, ‘চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসন যে কাজটি করল, যে অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প হাতে নিল, আমি মনে করি, এই ধারা যদি আমরা সারা দেশে অনুসরণ করি, তাহলে অচিরেই আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে আরও এগিয়ে যেতে পারব। পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ রোপণের লক্ষ্য কোনো উচ্চাভিলাষী কর্মসূচি নয়। সম্মিলিত উদ্যোগ ও জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে তা অর্জন সম্ভব। তবে বৃক্ষরোপণকে আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না রেখে পরিচর্যা ও সংরক্ষণে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।’

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা বিভিন্ন সময়ে নানা দাবি নিয়ে আন্দোলন করি। কিন্তু আজ আমাদের এই ১৫ হাজার মানুষের আন্দোলন ছিল পরিবেশ রক্ষার আন্দোলন। এই আন্দোলন আমাদের বেঁচে থাকার আন্দোলন, আমাদের আগামী প্রজন্মের বেঁচে থাকার আন্দোলন।’

সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি হাতে নেয় জেলা প্রশাসন। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ‘এক দিনে লক্ষ বৃক্ষ, সবুজ পরিবেশ আমাদের লক্ষ্য’।

এক লাখ চারা সংগ্রহ, বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছে দেওয়া এবং রোপণের জন্য গর্ত প্রস্তুত করাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সেনাবাহিনী, বন বিভাগ ও বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়। কর্মসূচির আগের দিন সন্ধ্যার মধ্যে প্রয়োজনীয় গর্ত খোঁড়ার কাজ শেষ হয়।

জাহিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সেনাবাহিনীর ২৪ পদাতিক ডিভিশন ৪০ হাজার চারা দিয়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোও সহায়তা করেছে। বাকি চারা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকারের কোনো অর্থ ব্যয় ছাড়াই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন