লামায় শত্রুতার জেরে ২৬০টি কলা ও সুপারিগাছ কেটে ফেলল প্রতিপক্ষ

লামায় শত্রুতার জেরে ২৬০টি কলা ও সুপারিগাছ কেটে ফেলল প্রতিপক্ষ
ছবি: আমার দেশ

পূর্বশত্রুতার জের ধরে বান্দরবানের লামা উপজেলায় এক কৃষকের ২৬০টি ফলন্ত কলা ও সুপারি গাছ কেটে বিনষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ২০ শতক জমির ফসল, ৫০টি সীমানা পিলার ও বাঁশের ঘেরাবেড়া উপড়ে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিমসহ অজ্ঞাতপরিচয় ১০-১২ জনের বিরুদ্ধে বুধবার বিকেলে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মুহা. আরিফ উল্লাহ। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি হরিণখাইয়া পাড়ায়।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফাইতং ইউনিয়নের হরিণখাইয়া পাড়ার বাসিন্দা আব্দুল করিমের নামে ফাইতং মৌজার জি/২৩ নম্বর হোল্ডিংমূলে সাড়ে তিন একর জমি রয়েছে। ১৯৮৫ সালে ক্রয়সূত্রে জমিটির মালিক হওয়ার পর সেখানে ফলদ ও বনজ গাছের বাগান গড়ে তোলেন তিনি। পরিবার-পরিজন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন আব্দুল করিম। তাঁর মৃত্যুর পর ওয়ারিশ সূত্রে ছেলে মুহা. আরিফ উল্লাহ জমিটি ভোগদখল করে আসছেন।

২০২৪ সালের দিকে জমি নিয়ে পাশের মৃত মনির আহমদের ছেলে আব্দুর রহিমদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে গত ২৬ অক্টোবর রাতে আব্দুর রহিমের নির্দেশে তাঁর ছেলে উচমানের নেতৃত্বে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জন সংঘবদ্ধ হয়ে আরিফ উল্লাহর জমিতে থাকা ৫০টি সীমানা পিলার ও বাঁশের ঘেরাবেড়া উপড়ে ফেলে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এরপর ২০০টি ফলন্ত কলাগাছ ও ৬০টি সুপারি গাছ কেটে ফেলা হয়। একই সময় ২০ শতক জমির সবজি ক্ষেতও বিনষ্ট করা হয়। এতে কৃষক আরিফ উল্লাহর প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগেও প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিমরা জমি জবরদখলের উদ্দেশ্যে আরিফ উল্লাহর বাবার নামে থাকা ও ভোগদখলীয় জমিতে অবস্থিত একটি খামারঘর ভেঙে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় আরিফ উল্লাহ লামা থানায় মামলা করেন। মামলাটির জিআর নম্বর ১১২/২৪। বর্তমানে মামলাটি চলমান রয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত আরিফ উল্লাহ বলেন, বাবা আব্দুল করিম মারা যাওয়ার পর ওয়ারিশ সূত্রে তাঁরা ওই জমি আবাদ করে ভোগদখলে রয়েছেন। শত্রুতার জের ধরে আব্দুর রহিমরা ১০-১২ জন লোক নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় তাঁদের দীর্ঘদিনের সৃজিত ২৬০টি ফলন্ত কলা ও সুপারি গাছ, জমির ফসল এবং সীমানা পিলার বিনষ্ট করেছেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের পর পুলিশ সরেজমিনে তদন্তে গেলে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ আব্দুর রহিমদের গোয়ালঘরে তাঁদের জমির সীমানার ঘেরাবেড়ার কিছু অংশ দেখতে পায়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত আব্দুর রহিম। তিনি বলেন, তাঁরা কারও কলা ও সুপারি গাছ কাটেননি কিংবা ফসল বিনষ্ট করেননি। তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁদের ফাঁসানোর জন্য মুহা. আরিফ উল্লাহ ষড়যন্ত্র করছেন।

এদিকে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন ফাইতং পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ হোসেন। তিনি বলেন, বিরোধপূর্ণ জমির ঘেরাবেড়ার কিছু অংশ আব্দুর রহিমদের গোয়ালঘরে পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এমএইচ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন